হৃদযন্ত্রের রক্তনালীর ব্লকের চিকিৎসায় বাইপাস সার্জারি সর্বোত্তম পন্থা

ডা. লুৎফর রহমান : বর্তমানে মরণ ব্যাধি গুলোর মধ্যে হৃদরোগ অন্যতম। তাই হৃদরোগের বিষয়ে আমাদের সচেতনতা প্রয়োজন। স্বাভাবিক চলাফেরা ও কাজ কর্মে, হৃদরোগের উপসর্গ দেখা দিলে কার্ডিয়াক চেকআপ করে জানতে হবে হৃদরোগ আছে কিনা এবং রোগ ধরা পড়লে প্রথমেই সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। যেসব রোগীর হার্ট অ্যাটাক হয়েছে এবং যাদের ব্লক আছে কিন্তু এখনও হার্ট অ্যাটাক করেনি তাদের চিকিৎসা পদ্ধতি কিছুটা আলাদা হতে পারে।

যাদের হার্ট অ্যাটাক হয়নি কিন্তু একাধিক ব্লক, প্রধান রক্তনালীতে ব্লক, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি সমস্যা বা অন্য কোন জটিলতা আছে তাদের খওগঅ-জওগঅ ণ বা বুকের রক্তনালী ব্যবহার করে বাইপাস সার্জারি করা সবচেয়ে নিরাপদ ও দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসা পদ্ধতি। এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে হার্টের কার্যক্ষমতা অটুট থাকে তাই অল্প বয়স্ক রোগীদের জন্য এটি একটি আদর্শ চিকিৎসা পদ্ধতি। সেই সাথে বুকের রক্তনালী গুলো নাইট্রিক অক্সাইড নিঃসরণ করে বলে হৃদযন্ত্রের রক্তনালীতে পুনরায় চর্বি বা কোলেস্টেরল জমতে বাধা প্রদান করে।

ফলে আজীবন নিশ্চিন্তে থাকা যায় । যেসব রোগীর হার্ট অ্যাটাক হয়েছে বা কোন কারণে হার্ট বড় হয়ে গেছে তাদের ক্ষেত্রে একটি বুকের ও অপরটি পায়ের রক্তনালী ব্যবহার করে সার্জারি করা ভালো। অর্থনৈতিক সীমাবব্ধতা যাদের আছে তাদের একাধিক ব্লকের ক্ষেত্রে বাইপাস সার্জারি উত্তম। কারণ, বাইপাস সার্জারি করলে পুনরায় চিকিৎসা গ্রহণের কোন প্রয়োজন হয় না এবং অতিরিক্ত অর্থ খরচের ভয় থাকে না। বাইপাস সার্জারির পর নিয়মিত ৩০-৪০ মিনিট হাঁটা, সুষম খাদ্যাভ্যাস, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান পরিহার করা ইত্যাদি সার্জারির সুফলকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

লেখক : কার্ডিয়াক বিভাগের প্রধান, ল্যাবএইড
সম্পাদনা : খন্দকার আলমগীর হোসাইন