উম্মতের ৭৩ দলের মাঝে কোন দল সত্যের ওপর?

ওমর শাহ : অনেকেই মাঝে মাঝে প্রশ্ন করে থাকেন, কিয়ামতের আগে আমাদের ধর্মে ৭৩টি দলের আবির্ভাব হবে। তার মধ্যে একটি দল জান্নাতি হবে। কোন বৈশিষ্ট দেখে আমরা জান্নাতি দল বেছে নিতে পারব।

উত্তর : হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর রা. থেকে বর্ণিত রাসুল সা. ইরশাদ করেছেন, আমার উম্মত তা’ই করবে যা করেছে বনী ইসরাঈলের লোকেরা। এক জুতা অপর জুতার সমান হওয়ার মত। এমনকি যদি ওদের মাঝে কেউ মায়ের সাথে প্রকাশ্যে জিনা করে থাকে, তাহলে এই উম্মতের মাঝেও এরকম ব্যক্তি হবে যে একাজটি করবে। আর নিশ্চয় বনী ইসরাঈল ছিল ৭২ দলে বিভক্ত। আর আমার উম্মত হবে ৭৩ দলে বিভক্ত। এই সব দলই হবে জাহান্নামী একটি দল ছাড়া। সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞেস করলেন, সেই দলটি কারা? নবীজী সা. বললেন, যারা আমার ও আমার সাহাবাদের মত ও পথ অনুসরণ করবে। {সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-২৬৪১, আল মু’জামুল কাবীর, হাদীস নং-৭৬৫৯, আল মু’জামুল আওসাত, হাদীস নং-৪৮৮৯, কানযুল উম্মাল ফি সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফআল, হাদীস নং-১০৬০}

বনী ইসরাঈলের মাঝে ছিল ৭২ ফিরক্বা। এর মাঝে ১টি ফিরক্বা ছিল জান্নাতী। আর ৭১ টি ফিরক্বা ছিল জাহান্নামী। আর এই উম্মতের মাঝে হবে ৭৩টি ফিরক্বা। এর মাঝে ১টি ফিরক্বা হবে জান্নাতী আর ৭২টি ফিরক্বা হল জাহান্নামী।

নবী কারীম সা. ইরশাদ করেছেন, পূর্বের উম্মত যাই করেছে এই উম্মতও তাই করবে নাফরমানীর দিক থেকে। তথা ওরা যত পদ্ধতিতে নাফরমানী করেছে এই উম্মতও সেই পদ্ধতীতে নাফরমানী করবে। সুতরাং আল্লাহ তায়ালার নাফরমানী করার ৭১টি পদ্ধতিওয়ালা বাতিল ফিরক্বা পূর্ব উম্মত থেকে গ্রহণ করবে এই উম্মত। তথা ৭১টি বাতিল ফিরক্বার মত ও পথ পূর্ব উম্মতের মত এই উম্মতেও থাকবে।

আর জান্নাতী ছিল পূর্ব উম্মতের ৭২ ফিরক্বার মাঝে একটি ফিরক্বা। সেটিও এই উম্মতে পূর্ব পদ্ধতি অনুযায়ী থাকবে। শুধু বাড়বে একটি বাতিল ফিরক্বা এই উম্মতে। যেই বাতিল ফিরক্বার কোন নজীর পূর্ব উম্মতের মাঝে ছিল না। সেই বর্ধিত বাতিল ফিরক্বাটি কারা? আল্লামা কুরতুবী রহ. তার প্রণীত তাফসীরে কুরতুবীতে লিখেন, যেই ফিরক্বাটি উম্মতে মুহাম্মদীদে বাড়বে তারা হল-ওলামাদের সাথে শত্রæতা করবে, আর ফুক্বাহাদের প্রতি রাখবে বিদ্বেষ। এই গ্রপটি পূর্ব উম্মতের মাঝে ছিল না।{তাফসীরে কুরতুবী, তাফসীর সূরাতুল আনআম}

এই উম্মতের মাঝে বর্ধিত বাতিল ফিরক্বাটি হল ফিক্বহ ও ফুক্বাহাদের দুশমন, তথা ইজতিহাদ ও মুজতাহিদদের দুশমন দল। কারণ পূর্ব উম্মতের মাঝে কেবল নবীর আনীত দ্বীনের উপর আমল করতে হত, নতুন করে নীতিমালার আলোকে কোন উদ্ভাবন করার কোন সুযোগ ছিল না। যেহেতু ইজতিহাদই ছিল না, তাই ইজতিহাদ ও মুজতাহিদ তথা ফিক্বহ ও ফক্বীহ অস্বিকারকারী কোন বাতিল ফিরক্বাও ছিল না। আর এই উম্মতে যেহেতু ফিক্বহ ও ফক্বীহ আছে, তথা ইজতিহাদ ও মুজতাহিদ আছে, তাই এর দুশমন ও আছে। এই উম্মতের বর্ধিত সেই বাতিল ফিরক্বাটি হল ফিক্বহ ও ফক্বীহদের সমালোচনাকারী, ইজতিহাদ ও মুজতাহিদীনদের দুশমন দল। ফিক্বহে হানাফী, ফিক্বহে শাফেয়ী, ফিক্বহে মালেকী, ফিক্বহে হাম্বলী অস্বিকারকারী দল হল এই উম্মতের বর্ধিত বাতিল ফিরক্বা।

মুরজিয়া, কাদরিয়া, জাবরিয়া, শিয়া, কাদিয়ানী, বেদআতি ইত্যাদী বাতিল ফিরক্বা এই উম্মতের বর্ধিত বাতিল ফিরক্বা নয়। পূর্ব থেকেই এই সব দলের নজীর আছে। কিন্তু ফক্বীহদের দুশমন বাতিল ফিরক্বার নজীর পূর্ব থেকে নেই। যেহেতু পূর্বে ফিক্বহ ও ফক্বীহই ছিল না।

সত্যের ওপর কারা?

নাজাতপ্রাপ্ত দল কারা? হাদীসে রাসূল সা. স্পষ্টতই সেই নাজাতপ্রাপ্ত দলের পরিচয় দিয়ে দিয়েছেন। নাজাতপ্রাপ্ত হল সেই দল-যারা নবীজী সা. এর সুন্নাত ও সাহাবায়ে কিরামের জামাতের মত ও পথের অনুসারী। এক কথায় যারা সুন্নাতধারী, সেই সাথে সাহাবাদের মত ও পথের অনুসারী। যাকে আমরা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত বলে থাকি।

নাজাতপ্রাপ্ত দল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত কোন রেজিষ্ট্রিকৃত দলের নাম নয়, এটি একটি আদর্শের নাম। যারা নবীজী সা. এর স্ন্নুাত আঁকড়ে থাকবে, সেই সাথে সাহাবাদের মত ও পথের অনুসারী হবে তারাই হবে জান্নাতী দল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত। সূত্র : আহলে হক মিডিয়া সার্ভিস