বনানীতে আদম ব্যবসায়ী খুন, অংশ নেয় ৬ জন

নুরুল আমিন হাসান : রাজধানীর বনানীতে আদম ব্যবসায়ী সিদ্দিক হোসাইনকে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে পালিয়ে যাওয়া এক প্রবাসী সন্ত্রাসীর নির্দেশে খুন করা হয়েছে। হেলাল ছিল পরিকল্পনাকারী ও অপারেশন কমান্ডার। ঘটনার দিন ভেতরে চারজন প্রবেশ করে ২৫ রাউন্ড গুলি ব্যবহার করে বলে জানিয়েছেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি)  মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বুধবার দুপুরে তিনি এই তথ্য জানান।

গুলশানের কালাচাঁদপুর এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে হেলাল উদ্দিনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। গ্রেফতারকালে তার কাছ থেকে ৫টি পিস্তল ও ১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ইউরোপ প্রবাসী এক সন্ত্রাসী তার ঢাকার বন্ধু হেলাল উদ্দিনকে (৩৮) ওই ব্যবসায়ীকে হত্যার নির্দেশ দেয়। এরপর তার পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই ব্যবসায়ীকে খুন করা হয়। তবে হত্যার কারণ সম্পর্কে এখনো কিছুই জানা যায় নি।’

তিনি বলেন, আদম ব্যবসায়ীকে হত্যার নির্দেশ আসে ইউরোপে থাকা প্রবাসী এক সন্ত্রাসীর কাছ থেকে। ওই সন্ত্রাসী ২০১৩-১৫ সালে দেশে জ্বালাও পোড়াওয়ের সঙ্গে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে দেশে অনেক মামলাও আছে। সে সিদ্দিককে হত্যা করতে বন্ধুকে নির্দেশ দেয়। সিদ্দিক ছাত্রদলের মধ্যম সারির নেতা ছিল।’

হেলালের বরাত দিয়ে মনিরুল বলেন, হত্যাকাণ্ডে মোট ছয়জন অংশ নেয়। হেলাল ছিল পরিকল্পনাকারী ও অপারেশন কমান্ডার। হত্যাকান্ডের জন্য ঘটস্থলের ওই অফিসের ভেতরে চারজন প্রবেশ করে। যাদের দুজনের মাস্ক পড়া ছিল, একজনের ক্যাপ পড়া ছিল এবং অন্যজনের মুখে কিছুই ছিল না। তারা হত্যাকাণ্ড ঘটাতে ২৫ রাউন্ড গুলি ব্যবহার করে।  এ সময় হেলাল ও তার আরেক সহযোগী বাইরে দাঁড়িয়ে ঘটনা মনিটরিং করে। অফিসে গুলি করে তারা বের হয়ে অফিসের দরজা বাইরে থেকে লাগিয়ে দিয়ে চলে যায়।

হত্যাকান্ডে জড়িত আসামীদের শনাক্তের বিষয়ে সিটিটিসির প্রধান বলেন, সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় চারজন। তাদের মধ্যে দুজনকে আমরা শনাক্ত করেছি। তারা হলো, পিচ্চি আল আমিন ও সাদ্দাম। অপর দুই জনকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। গ্রেফতার হেলালকে দশদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি পেলে তাকে এ বিষয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

উল্লেখ্য, গত ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় বনানীর এস মুন্সি ওভারসিজ রিক্রটিং এজেন্সির মালিক সিদ্দিক হোসাইনকে তার অফিসে গুলি করে হত্যা করা হয়। এসময় তার চার জন অফিস স্টাফও গুলিবিদ্ধ হন। এই ঘটনায় বনানী থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। মামলাটি বর্তমানে ডিবি উত্তর তদন্ত করছে।