বাবরি মসজিদ ভাঙার ২৫ বছর পূর্তি
হিন্দুবাদী সংগঠনগুলো এখনো চায় মসজিদ নয় মন্দির হোক: গৌতম লাহরি

ফারমিনা তাসলিম: ভারতে বাবরি মসজিদ ভাঙার ২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতের অযোদ্ধা শহরের সপ্তদশ শতকে তৈরি ঐতিহাসিক স্থাপনা বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলেছিল হিন্দু জনতা। এ ঘটনার পর ভারতের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে তাতে নিহত হয় প্রায় ২ হাজার মানুষ। ভারতের হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে সবচেয়ে তিক্ত সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে ধরা হয় এ বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার ঘটনাটিকে।

এরপর গত ২৫ বছরে তাতে কতটা পরিবর্তন হয়েছে সে প্রসঙ্গে বিবিসি বাংলার সাথে কথা বলেন ভারতের সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গৌতম লাহরি।

গৌতম লাহরি বলেন, ভারতীয় জনতাপার্টি যারা হিন্দুবাদে বিশ্বাসী তারা ইতিহাসকে পুরাতন জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চান। মসজিদটি মন্দির থেকে পরবর্তীতে ইতিহাসের বিবর্তনে মসজিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিলো। যার ফলে তা মানতে চাননি ভারতীয় জনতা পার্টি। তারা মনে করতেন বাবরি মসজিদ  ভগবান শ্রীরামের মন্দির হওয়া উচিত।

২৫ বছর পরে ভারতে বাবরি মসজিদ নিয়ে হিন্দু ও মুসলিমের তিক্ত সম্পর্কের কতটা পরিবর্তন হয়েছে?

জবাবে গৌতম লাহরি বলেন, মূল সমস্যাটা হলো জমির মালিকানা নিয়ে মামলা চলছে, মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। সুপ্রিম কোর্টে এখনো শুনানি চলছে। এ সমস্যার সমাধান এখনো হয়নি। ভারতের হিন্দুবাদী সংগঠনগুলো মনে করে, আদালতের রায় যাই হোক না কেন মসজিদ নয় রাম মন্দির হতে হবে। ভারতের বাকি সমস্ত দলগুলো মনে করে, সুপ্রিম কোর্টের সর্বোচ্চ রায় তাদের সবার মেনে নেয়া উচিত। যদিও মামলাটির এখনো কোনও নিষ্পত্তি হয়নি। যেকারণে এটা কেবলমাত্র ভারতে যখন কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তখন এ ইস্যুটি প্রাধান্য পেয়ে থাকে। বিশেষ করে যাতে হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে মেরুকরণ করে ভোট পাওয়ার সুবিধা হয়।

গোমাংস নিয়ে ভারতে হত্যার ঘটনাও ঘটছে। এর পেছনে বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার কোন প্রভাব আছে কি?

এমন প্রশ্নের জবাবে গৌতম লাহরি বলেন, প্রভাব নিঃসন্দেহে আছে। কারণ ভারতবর্ষের যে শাসক দল তারা রাজনৈতিক আদর্শবাদী। তারা যে কোনভাবে হোক ভারতবর্ষের সমস্ত সমাজের সমস্ত অংশকে মানিয়ে নিয়ে চলে।  গোমাংস তাদের জন্য অন্যতম একটা বিষয়। মূল বিষয়টা ভারতবর্ষকে একদল চান হিন্দু রাষ্ট্র করতে, কিন্তু যেটা ভারতের কোন রাজনৈতিক দলের ঐতিহ্য নয়। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল বিষয় ছিল ভারতের সর্বধর্ম সমন্বয়ে রাষ্ট্র হবে। কোন মুসলিম বা হিন্দু ধর্মাবলম্বীর রাষ্ট্র হবে না।

বাবরি মসজিদ নিয়ে ভারতবর্ষে দুটি সম্প্রদায়ের মধ্যে যে উত্তেজনা সৃষ্টি করতো, পরিস্থিতি এখনো কি সেরকমই আছে?

গৌতম লাহরি বলেন, এখন ব্যাপারটা বার্ষিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগের তুলনায় ভারতবর্ষের মানুষ এখন অনেক সচেতন। বাবরি মসজিদের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এখন ভারতবাসীরা খুব একটা একটা প্রভাবিত হন না। ফলে বিষয়টি ৯০ দশকের যে উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করেছিল ২০১৭ সালে সে ধরণের ভাবাবেগ তৈরি করতে পারবে না। সে রকম কোন লক্ষণও দেখা যায় না।

সূত্র – বিবিসি বাংলা