জেরুজালেমে দূতাবাস সরানোর কথা আব্বাসকে জানিয়েছেন ট্রাম্প: ফিলিস্তিন

ডেস্ক রিপোর্ট : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমে ইসরায়েলি দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার ইচ্ছের কথা ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে জানিয়েছেন। মঙ্গলবার ফোনালাপে আব্বাসকে এই ইচ্ছের কথা জানান ট্রাম্প। তবে দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার কোনও সময়ের কথা উল্লেখ করেননি ট্রাম্প। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

মুখপাত্র নাবিল আবু দাইনাহ এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ফোন পেয়েছেন। ফোনে মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার ইচ্ছের কথা জানিয়েছেন তিনি (ট্রাম্প)।
মুখপাত্রের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে প্রেসিডেন্ট আব্বাস সতর্ক করেছেন।

এমন সময় ট্রাম্প ফোন দিয়ে মাহমুদ আব্বাসকে এই ইচ্ছের কথা জানালেন যখন পুরো আরববিশ্ব জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতির বিরোধিতা করছে।
ইহুদি-খ্রিস্টান ও মুসলিম; তিন সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য পবিত্র ধর্মীয় স্থান জেরুজালেম। তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ৪ ডিসেম্বর সময়সীমা পার হয়ে গেছে। সোমবার দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা না দেওয়ায় দেশটির আইন অনুযায়ী আরও ছয় মাসের মধ্যে দূতাবাস সরছে না। দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করলেও আশঙ্কা রয়েছে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করতে পারেন ট্রাম্প।
মঙ্গলবার সকালে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আব্বাস ছাড়াও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও জর্ডানের বাদশা আব্দুল্লাহ’র সঙ্গেও কথা বলেছেন অথবা বলবেন ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স বলেন, আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু, বাদশা আব্দুল্লাহ ও মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে কথা বলার কথা প্রেসিডেন্টের। পরে আমরা এসব ফোনালাপের বিস্তারিত জানাব।

গত সপ্তাহে একজন উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন বুধবার ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারেন। তবে ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
এর আগে সোমবার সৌদি আরব বলেছে, ‘চূড়ান্ত মীমাংসার আগে এ ধরনের পদেক্ষেপ ইসরায়েল–ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।’ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বিষয়টিতে বিশ্বনেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্ত শান্তি প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করে দেবে।’ জর্ডান এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ভয়ংকর পরিণতির ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে। আরব লীগের প্রধান আবুল ঘেত বলেছেন, এ পদক্ষেপ ধর্মান্ধতা ও সহিংসতার জন্ম দেবে। হুমকি দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানও। তিনি জেরুজালেম নিয়ে সীমা লঙ্ঘন না করতে ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। পবিত্র ওই শহরকে ইসরায়েলি রাজধানীর স্বীকৃতি দিলে তেল আবিবের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নেরও হুমকি দিয়েছেন তিনি। এরদোয়ান বলেন, ‘জনাব ট্রাম্প, জেরুজালেম প্রশ্নে আপনার অবস্থান মুসলিমদের জন্য সীমা লঙ্ঘনের সামিল।’