শশী কাপুর মহার্ঘ্য সুগন্ধির মতো স্মৃতি হয়ে থাকবে: সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

জুয়াইরিয়া ফৌজিয়া: ৭৯ বছর বয়সে হিন্দি সিনেমার খ্যাতনামা অভিনেতা শশী কাপুর দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগে (৪ নভেম্বর) মারা গেছেন। তার জীবদ্দশায় তিনি ধর্মপুত্র, বেনজির, ওয়াক্ত, পেয়ার ক্যা মোসাম, হাসিনা মান যায়েগি, হীরা ওর পাথ্বর, সীলসীলাসহ প্রায় ১১৬ টির মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন। চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ভারত সরকারের সম্মানজনক ‘দাদা সাহের ফালকে’ ও ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছন।

শশী কাপুরের কর্মজীবন নিয়ে বিবিসি বাংলার সাথে কথা বলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম এন্ড স্টাটিজ বিভাগের অধ্যাপক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, বোম্বে মোটামুটিভাবে একটি ক্লোনিয়াল শহর ছিল। সেখানে মানুষ ভিক্টোরিয়া টার্মিনাল বা ইন্ডিয়া গেট দেখতে যেত। তাছাড়া স্থাপত্যে ইংরেজিয়ানা ছিল।  শশী কাপুর ছিল সেই সময়কার অভিনেতা। তখন মুখ আলাদাভাবে একটা সৌন্দার্য তৈরি করত, যখন পেশি প্রদর্শন নায়কের একমাত্র কাজ ছিল না। শশী কাপুরই আসমুদ্র হিমাচলকে নন্দিত করে বলেছিলেন, মেরে প্যাস মা হে। তার এই কথাটি এখন একটি প্রবাদ প্রবচনে পরিণত হয়েছে।

শশী কাপুরের সমসাময়িকদের চেয়ে অভিনয়ে তাকে কোন দিকটা আলাদা করেছিল?

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শশী কাপুরের যে মাধুর্য্য এবং লাবণ্য সেটা তাকে সমকালীন অন্য নায়ক থেকে তাকে আলাদা করেছিল।

অভিনয়ের বলিষ্ঠতা কি শশী কাপুর তার পরিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে পেয়েছিলেন?

সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় বলেন, রাজ কাপুর পরিবারের সদস্য হিসেবে তার রক্তেই অভিনয় ছিল। শশী কাপুরের আগে আমি শাম্মী কাপুর দেখেছি। শশী কাপুর ছিলেন একজন ধ্রুপদী প্রেমী। এই ধ্রুপদী প্রেমী সত্তর দশকে প্রায় হিন্দি মুভিতে অনুপস্থিত। রাজেশ খান্না তখন অন্য এক ধরণের প্রেমিকের চরিত্রে অভিনয় করতেন। কিন্তু সাধারণভাবে খন্ডত্বকান্তি এক নায়ক যিনি প্রেমে পাগল যার জন্য পুরো উপমহাদেশ পাগল হয়েছিল। তার কারণ হচ্ছে তিনি কাপুর পরিবারের মধ্যেই একজন। পৃথ্বীরাজ কাপুর, রাজ কাপুর, শশী কাপুর এবং অন্য যে কাপুররা আছেন তারা কিন্তু প্রত্যেকেই অভিনেতা। তাদের মধ্যে একটা স্বতন্ত্র্য জায়গা করেছিলেন তিনি। তিনি হিন্দি সিনেমার পাশাপাশি ইংরেজি সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন। তারপর যখন হাউজ হোল্ডার, শেক্সপেরিয় বা যখন সিদ্ধার্থ বানালেন তখন শশী কাপুর অভিনয় করতেন। শশী কাপুর যখন একই সাথে নাটকে এবং সিনেমায় যে দ্বিভাষিক চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তখন শশী কাপুর একটি স্বতন্ত্র্য তৈরি করেছিলেন পরিবারের মধ্যেই।

আজকের যে বলিউড সেখানে যে ধরণের সিনেমা তৈরি হয় এবং যে ধরণের চরিত্র বা অভিনেতা- অভিনেত্রীরা অভিনয় করেন সেখানে শশী কাপুর কী ধরণের অবদান রেখে যেতে পেরেছেন এবং তাকে কিভাবে স্মরণ করা হবে?

শশী কাপুর অনেক দামি এবং মহার্ঘ্য সুগন্ধির মতো স্মৃতি হিসেবে থেকে যাবে- এটাতে কোনো সন্দেহ নেই বলেও মনে করেন অধ্যাপক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়।

সূত্র- বিবিসি বাংলা