হতাশা আছে, তবু আলোর পথে বাংলাদেশ : হায়দার আকবর খান রনো

 

 

 

 

 

 

 

আশিক রহমান : ৪৭-এ পা রাখছে বাংলাদেশ। এই সময়ে আমাদের প্রাপ্তি যেমন রয়েছে, আছে অপ্রাপ্তিও। তবে যত অপ্রাপ্তিই থাকুক প্রকৃতির নিয়মেই আগামী দিনে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছাবে বলে মন্তব্য করেছেন সিপিবির সভাপতিম-লীর সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক হায়দার আকবর খান রনো।

আমাদের অর্থনীতিকে তিনি বলেন, পৃথিবী যেভাবে এগোচ্ছে তাতে আশার জায়গাও আছে। হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আমেরিকা ১% থেকেই ৯৯% হয়েছে, বাংলাদেশও সেখানে পৌঁছাবে। এরকম একটা সিচুয়েশন আগামী দিনে তৈরি হবে। কমিউনিস্ট পার্টি না পারলেও এটা হবে। কারণ প্রকৃতির একটা নিয়ম আছে।

 

তিনি বলেন, আমি আগামীতে সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চাই। এখানে উন্নয়নের কথা বলে কিছু লোকের উন্নয়ন হয়। যেখানে চরম বৈষম্য, মানুষ চাকরি না পেয়ে সমুদ্রযাত্রা করে থাইল্যান্ডে গিয়ে জীবন দেয়Ñ এমন বাংলাদেশ চাই না।
এক প্রশ্নের জবাবে হায়দার আকবর খান রনো বলেন, বাহ্যিকভাবে আমাদের বিরাট উন্নয়ন হয়েছে। এবং কিছু লোকের যে উন্নয়ন হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আঙুল ফুলে কলাগাছ নয়, বটগাছ হয়ে গেছে। আর যেটুকু উন্নয়ন হয়েছে, আমরা যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নিত হয়েছি তার জন্য আমরা কৃতিত্ব দেব তিনটি বিষয়কে। একটা হচ্ছে বিদেশে কর্মরত আমাদের শ্রমিকদের অবদান। দুই. আমাদের গার্মেন্টেসের মেয়ে বা ছেলেদের। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী যে পরিমাণ পারিশ্রমিক তাদের পাওয়া উচিত তার চেয়ে অনেক কম পায়। কিন্তু তারাই আমাদের দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তৃতীয়, আমাদের কৃষক ভাইয়েরা। যারা দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, এখানে সরকারের কোনো ক্রেডিট নেই। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বিদেশে কর্মরত শ্রমিক, পোশাক শ্রমিক যারা উল্টো মার খায় এবং কৃষকেরা। আর এর ফল ভোগ করছে ওপরতলার কিছু লোক। আমরা এটা চাই না। আমরা চাই সমতা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ। আমরা চাই সমাজতন্ত্র। যতদিন সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না হচ্ছে ততদিন শ্রেণি বৈষম্য থাকবে, শ্রেণি সংগ্রাম থাকবে।