আমাদের অর্থনীতিকে এলডিপি সভাপতি ড. অলি আহমদ
আমাদের অনেকের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বর্তমান সরকারের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত হয়েছে

 

আশিক রহমান : আমাদের অনেকের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বর্তমান সরকারের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত হয়েছে। তবে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। বিগত কয়েক বছরে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং পানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। নি¤œমধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত পরিবারে অশান্তি বিরাজ করছে। গরিব মানুষেরা খুব কষ্টে দিনাতিপাত করছে। তিনি বলেন, নিঃসন্দেহে বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় উন্নয়নমূলক কর্মকা- হয়েছে এবং হচ্ছে। তবে এতে সাধারণ মানুষ সন্তুষ্ট নয়। কারণ তারা নিজ ঘরে শান্তিতে ঘুমাতে পারে না। আয় এবং ব্যয়ের মধ্যে অনেক পার্থক্যও দৃশ্যমানÑ আমাদের অর্থনীতিকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।

এক প্রশ্নের জবাবে এই রাজনীতিক বলেন, ২০ দলীয় ঐক্যজোট বা এলডিপির দলীয় মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর অধীনে আগামী নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি। এবং সে সম্ভাবনাও দেখছি না। এলডিপির পক্ষ থেকে আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন দাবি করেছি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে দিতে সরকারকে বাধ্য করা হবে। সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নিয়মনীতি অনুসরণ করে বিভিন্ন কর্মসূচি দেওয়া হবে। আমরা এখনো ২০ দলীয় জোটে রয়েছি। অন্যকোনো

রাজনৈতিক জোটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা এবং নিয়মনীতি রক্ষার জন্য এই নির্বাচন করা হচ্ছে। আরও বলা হয়েছিল খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে সকল রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। পরবর্তীতে আমরা দেখলাম যে সমস্ত রাজনৈতিক দল নির্বাচন বর্জন করেছিল তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা, যত্রতত্র গ্রেপ্তার, সভা-সমাবেশ বন্ধ, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করা হয়।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ড. অলি আহমদ বলেন, এখনো পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন সরকারের একটি আজ্ঞাবহ ও আওয়ামী লীগের অংগসংগঠন হিসেবে কাজ করছে। বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যÑ সুস্পষ্ট নয়। যেমন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যাপারে কোনো বক্তব্য আসেনি। তাদের উচিত হবে জনগণকে আস্থায় নেওয়া এবং আশ্বস্থ করা।
সাবেক প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ বা অপসারণ বিষয়েও মন্তব্য করেছেন এলডিপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে যা কিছু ঘটেছে তা অত্যন্ত ন্যক্কার ও লজ্জাজনক। গায়ের জোরে বিচারবিভাগ নিয়ন্ত্রে নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের কর্মকা- থেকে আমাদের সকলকে বিরত থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বহু বছর যাবৎ বাংলাদেশে সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ নেই। হানাহানি, মারামারি, মিথ্যাচার, গায়ের জোরে দখল এবং দুর্নীতির মাধ্যমে বড়লোক হওয়া রাজনীতিবিদদের একমাত্র লক্ষ্য। ফলে সমগ্র সমাজ দিকনির্দেশনাহীন অবস্থায় গুম, খুন, ধর্ষণ, এবং মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এই অবস্থা থেকে দেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য সকল দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। এছাড়াও আমরা ধর্মীয় অনুশাসন থেকে অনেক দূরে সরে গেছি। আমাদেরকে অন্তর দিয়ে দেশকে ভালোবাসতে হবে, অন্তর দিয়ে দেশের মানুষকে ভালোবাসতে হবে, অন্তর দিয়ে দেশকে দেখতে হবে। মিথ্যাচার ও ধোঁকাবাজির মাধ্যমে আমরা নিজকে এবং দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই সত্যটা উপলব্দি করতে পারলে দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গলজনক হবে। রাজনৈতিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হবে। ঠিকদারি রাজনীতির অবসান হবে।

এলডিপি সভাপতি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে যখনই সরকারে থাকে তারা তখন রাজনীতি মেনে চলতে চায় না। রাজনীতিকে স্বাভাবিক পথে পরিচালিত হতে দেয় না। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য স্বৈরাচারি মনোভাব নিয়ে কাজ করে। ফলে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও অস্ত্রবাজরাই রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে। বরাবরই সত্যিকারভাবে যারা অপরাধী তারা পার পেয়ে যাচ্ছে। সমাজে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একে অপরকে দোষারোপ না করে আমাদের উচিত হবে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা। দেশ ও মানুষের সম্পদ ধ্বংসকারী কখনো দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক নেতা বা কর্মী পারেন না।

সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সঠিক পছন্দগুলো নির্ণয় করা উচিত। অন্যথায় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজরা জ্বালাওপোড়ায়ের মতো কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। রাজনীতিবিদ ও রাজনীতি কলুষিত, বিতর্কিত হবে। যা কখনো কাম্য হতে পারে না।