অ্যাপভিত্তিক পরিবহন সেবা নীতির আওতায় আনা উচিত: শামসুল হক

জুয়াইরিয়া ফৌজিয়া: অ্যাপভিত্তিক পরিবহন সেবাকে (পাঠাও-উবার) নীতির আওতায় এনে আইনী কাঠামোতে রেখে সরকারের স্বীকৃতি দেয়া উচিৎ বলে মনে করেন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল হক। তিনি বলেন, অ্যাপভিত্তিক সেবায় কিছু বাধা থাকেই।  বাধা সৃষ্টির আগেই নিয়ামের আওতায় এনে সেগুলোর সমাধান করা উচিত।

যানজটের দুর্ভোগ কমাতে অ্যাপভিত্তিক পরিবহন সেবা বিষয়ে বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাৎকারে ড. শামসুল হক এসব কথা বলেন।

ড. শামসুল হক আরও বলেন, উবারের যাত্রী হিসেবে আমি কিছুটা খুশি। তবে যে ড্রাইভারগুলি উবারে রেজিস্ট্রেশন করেছে তাদের রোড সেন্স এবং লোকেশনাল সেন্সের একটু ঘাটতি আছে। সিএনজি- অটোরিকশার সঙ্গে দরকষাকষি খুব দুর্ভোগের ছিলো। কিন্তু পরিবহনের নীতি ও সুযোগ সুবিধা অনেকটাই পূরণ করতে পেরেছে অ্যাপভিত্তিক সেবা। ব্যবহারকারী হিসেবে আমি অনেক খুশি।

উবারের মতো কিছুদিন আগে পাঠাও এসেছে। এইগুলো কী পরিবহনখাতে নতুন নতুন প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি করতে পারবে?

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে। উবারের গতি-প্রকৃতি এবং অন্যান্য সার্ভিসগুলো সেগুলো অনেকদিন ধরেই আমি লক্ষ্য করছি। উবার ইন্ডিয়াতেও খোলা আছে। তাছাড়া যেকোন প্রযুক্তি নির্ভর সেবা আসে সেগুলোর রেপলিকেট, ডুপলিকেট হতেই পারে। কিন্তু আমরা চাইবো দেশের নতুন প্রজন্ম যদি নিজেদের কোন সার্ভিস করে। আর এটি যদি উবারের মাধ্যমে হয় তাহলে তারা অবশ্যই সেটির দিকে ঝুঁকবে। ব্যবহারকারীরা সেবা পেতে চায়। আর সেটি যদি তা একাধিক পক্ষ দেয় তাহলে অবশ্যই সেটি প্রতিযোগীতার সৃষ্টি করবে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে সাবই সেবা পেতে পারবে।

এই সার্ভিসগুলোর বৈধতা নিয়ে কী কোনো আইনি নির্দেশনা বা বাধা আছে?

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছুটা নির্দেশনা বা বাধাতো অবশ্যই আছে। এই বাধাগুলো শুরু করার আগেই সমাধান করে নেওয়া ভাল। এটি যেহেতু একটি অন্য ধরণের ব্যবসা তাই এটিতে যদি কোনো সরকারি নীতির অভাব থাকে তাহলে সেটি ঠিক করে লিগ্যাল ফ্রেম ওর্য়াকের আওতায় এনে ব্যবসায়টি শুরু কার উচিত। তাছাড়া এখানে সরকারেরও কিছু স্বার্থ জড়িয়ে আছে। আর এ সেবাটাকে যখন স্বীকৃতি দেওয়া হবে তখন সরকারের কিছু দায় চলে আসবে। সেই হিসেবে আমার মনে হয় আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে ব্যবসা শুরু করা উচিত।

অ্যাপভিত্তিক সার্ভিসগুলো কী যানজট বা জনদুর্ভোগ কমাতে শহরে কোনো ভূমিকা রাখবে?

এমন প্রশ্নের জবাবে ড. শামসুল হক বলেন, এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে সরকারের নীতির সহয়তার ওপর। চীনের সরকার এখন এ ধরণের রাইড শেয়ারকে প্রমোট করছে। এই সার্ভিসকে নিরুৎসাহিত করা হলে তা রাইড শেয়ারিংয়ের অর্জনকে পিছিয়ে দেবে।