পৃথিবীর তাপমাত্রা জাহান্নামের সত্তর ভাগের এক ভাগ

সাইদুর রহমান : পৃথিবীর তাপমাত্রা কোন মানুষের সহ্য করা সম্ভব না। পৃথিবীর মধ্যে যে আগুণের তাপমাত্রার বিভিন্ন স্তর রয়েছে। গ্যাসের আগুন, বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক বোমার আগুন যেমন, পরমাণু বোমার আগুন, হাইড্রোজেন বোমার প্রজ্বলন ক্ষমতা মানুষ কল্পনাও করতে পারে না। এসবই এই দুনিয়ার আগুনের তাপমাত্রা।

জাহান্নামের আগুনের তাপমাত্রা হবে এই পৃথিবীর তাপমাত্রার সত্তর ভাগের একভাগ। বাকি উনসত্তর ভাগের প্রতিটি ভাগ দুনিয়ার আগুনের তাপমাত্রার সমমান। এ সর্ম্পকে হাদীসে এসেছে, আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের এ অগ্নি যা আদম সন্তানগণ প্রজ্জলিত করে তা জান্নামের আগুনের তাপমাত্রার সত্তর ভাগের একভাগ। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ। আল্লাহর কসম! এ আগুন যথেষ্ট ছিল। তিনি বললেনঃ (তবুও) সে আগুনকে এ আগুনের তুলনায় উনসত্তর গুন বেশী তাপমাত্রা সম্পন্ন করা হয়েছে। এর (উনসত্তরের) প্রতিটি গুন তার তাপের (দুনিয়ার আগুনের) সমমানের। মুসলিম হাদীস নং ৬৯০২

জাহান্নামের আগুনের গভীরতা। জাহান্নামের অভ্যন্তরের বিশালতা কেমন হবে এ বিষয়ে হাদীসে এসেছে, আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বসাছিলাম। হঠাৎ ‘ধপাস’ আওয়াজ তিনি শুনতে পেলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ কিসের আওয়াজ, তোমরা কি জান? বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ এ একটি পাথর যা সত্তর বছর পূর্বে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। অতঃপর তা কেবল গড়াতে থাকে। যেতে যেতে এখন তা তার অতল তলে গিয়ে পৌঁছেছে।ম ুসলিম হাদীস নং ৬৯০৪
জাহান্নামের আগুনের রং কেমন হবে এ বিষয়ে হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন : এক হাজার বছর জাহান্নামকে উত্তাপ দেয়া হয়েছে। ফলে তার আগুন রক্তিম বর্ণ ধারণ করছে। অতপর পুনরায় এক হাজার বছর উত্তাপ দেয়ার ফলে এটি সাদা রং পরিগ্রহ করেছে। অতপর আরও এক হাজার বছর উত্তাপ দেয়ার ফলে এর আগুন কৃষ্ণবর্ণ হয়ে গেছে। সুতরাং জাহান্নাম এখন সম্পূর্ণরূপে গাঢ় কালো তমসাচ্ছন্ন। (তিরমিযী)

রাসূলে করীম (স.) আরও ইরশাদ করেন : জাহান্নামের মধ্যে সেই ব্যক্তির শাস্তি সর্বাপেক্ষা হালকা যার পাদুকাদ্বয় ও জুতার ফিতা হবে আগুনের তৈরি, যার কারণে হাঁড়ির ন্যায় তার মস্তিষ্ক ফুটতে থাকবে এবং সে মনে করবে যে, তার শাস্তিই সর্বাপেক্ষা কঠিন। অথচ তার আযাবই সর্বাপেক্ষা হালকা। (বুখারী মুসলিম)