ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সামাজিক আন্দোলন জরুরি: ডা. মুহিত কামাল

সাগর গনি : গাজীপুরে ইজিবাইক চালকের শিশু ধর্ষণের চেষ্টার সময় উত্তেজিত জনতা তাকে উত্তম মধ্যম দিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করতে সমর্থ হয়। সামাজিকভাবে শিশুকে যৌন-হয়রানি বা ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে। শিশুরা অরক্ষিত থাকে, তারা জোর করতে পারে না, তুলনামূলকভাবে দুর্বল এবং বাধা দিতে পারে না। এসব কারণে যখন কোনো ব্যক্তি একটি শিশুকে পায়, সেই ব্যক্তির যদি যৌন চেতনাগুলো অনিয়ন্ত্রিত থাকে তখন সে এই কাজটি করে ফেলে। এখানে তার নৈতিক শক্তির অবক্ষয় রয়েছে, নৈতিক শক্তির দুর্বলতা রয়েছে এবং তার সামাজিক দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। সুযোগ পেয়েছে, দুর্বলের উপর আক্রমণ করছে এই ধারণাগুলো মানুষের মনে নানাভাবে কাজ করে। কেউ ব্যক্তিত্বের সমস্যার জন্য করে, কেউ মাদকাসক্ত হয়ে করে।

এসব অপরাধ কমিয়ে আনতে হলে আমাদের নৈতিক সত্ত্বাকে জাগিয়ে তুলতে হবে। আমাদের যে নৈতিক শক্তির চর্চা ছিল, সনাতনভাবে আমরা যেভাবে এটাকে খুব যতেœ লালন করেছিলাম, সমাজে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম, সেই জিনিসগুলোর অবক্ষয় ঘটেছে। এ অপরাধ কমিয়ে আনতে হলে আন্দোলনটা আসলে ঘর থেকে শুরু করতে হবে। সর্বপ্রথম আমাদের পরিবার থেকে এই আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এসব ঘটনার খবর যখন বের হয় তখন বেশিরভাগ বাস চালক বা হেলপাররা এটা জানে না। তারা জানে না যে এগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পরছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তারা মনে করে ভিকটিম একা তাই এটা কেও জানবে না। এসব অপরাধের বিচার করা হলে তার খবর ব্যাপকভাবে প্রচার করা মিডিয়ার দায়িত্ব।

এছাড়া বাস-ট্রাক মালিক সমিতির একটা দায়িত্ব রয়েছে। তারা যখন কোনো হেলপার বা ড্রাইভার নিয়োগ দেয় তখন নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যাক্তির সম্পূর্ণ তথ্য নেওয়া উচিত। সে কোনো সামাজিক অপরাধ করেছে কিনা, মাদকাসক্ত কি না। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাদের নিয়োগ দেওয়া উচিত। তাদের বোঝানো উচিত একটা বাসে একজন নারী বা শিশু একা থাকলে তার সঙ্গে কি ধরণের ব্যবহার করা উচিত, তাকে সম্মান দেওয়া উচিত। কারণ একটি বাসের চালক যখন কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে সেই ঘটনার জন্য বাসের মালিকও আক্রান্ত হচ্ছে। যখন কাউকে পরিবহন শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেবে তখন দেখা উচিত তার মাঝে সমাজ বিরোধী কোনো বৈশিষ্ট্য আছে কিনা, মাদক গ্রহণ করে কি না এসব জিনিসগুলো যদি বিবেচনায় আনা হয় তাহলে এমন অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। মালিক পক্ষের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করা উচিত। বাস চালক, হেলপারদের নিয়ে মালিক পক্ষের প্রতিনিয়ত কাউন্সিলিং করা উচিত। তাদেরকে সতর্ক করা উচিত।

এই ধরণের অপরাধগুলো যে সামাজিকভাবে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত করে, ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে সমাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এগুলো তাদের বোঝাতে হবে। এগুলো করতে পারলে তখনই তারা সতর্ক হবে। অপরাধীর সঠিক এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার করলে এবং সেই বিচারের রায় ব্যাপকভাবে প্রচার করলে এগুলো অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। শুধু টেলিভিশন আর খবরের কাগজে এগুলো প্রচার করলেই হবে না। বাস মালিকদের মাধ্যমে চালক এবং হেলপারদের কাছে এসব তথ্য পৌঁছে দিতে হবে। যাতে করে তারা সতর্ক হয় এবং এ ধরণের অপরাধ থেকে বিরত থাকে।

পরিচিতি : লেখক ও মনোবিজ্ঞানী