নতুন ৩ ব্যাংকের অনুমোদন প্রসঙ্গে ইব্রাহিম খালিদ
রাজনৈতিক কারণে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত নয়

জুয়াইরিয়া ফৌজিয়া: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খন্দকর ইব্রাহিম খালেদ বলেছেন, রাষ্ট্রায়ত্ব ৯টি ব্যাংকের অর্থনৈতিক অবস্থা এমনিতেই ভালো নয়। এর মধ্যে আবারও তিনটি ব্যাংকের অনুমোদন পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে। ফলে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন ব্যাংকের অনুমোদনের কোন প্রয়োজন নেই। কোন রাজনৈতিক কারণে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ নয়। সূত্র- বিবিসি বাংলা

বাংলাদেশে আরও নতুন ৩টি ব্যাংকের অনুমোদন বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। এ প্রসঙ্গে বিবিসি বাংলার সাথে এক সাক্ষাৎকারে ইব্রাহিম খালিদ এসব কথা বলেন।

দেশে এখন সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে অর্ধ-শতাধিক বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। অর্থমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের দিনেই ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর পদত্যাগ করেছেন। ব্যাংকটির নিরীক্ষা কমিটি চেয়ারম্যান ও পরিচালক মাহবুবুল হক চিশতিকেও পদ ছাড়তে হয়েছে। ব্যাংকিং খাতের এমন পরিস্থিতিতে নতুন ব্যাংকের অনুমোদন কতটা যৌক্তিক সিন্ধান্ত?

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর আগে যখন আরও ৯টি ব্যাংক অনুমোদন করেছিল তখন আমরা মন্তব্য করেছিলাম, আমাদের যে ইকোনোমিক্স প্রাইজ তাতে নতুন ব্যাংক অনুমোদন করা ঠিক হবে না। সেটাতে আনডিউ কম্পিটিশন হবে যেটা তাদের করা সম্ভব না। কিন্তু সেটা তারা করতে চেষ্টা করবে এবং এতে বিপদের মুখে পড়তে পারে। ৯টি ব্যাংকের মধ্যেই ফারমার্স ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংকসহ আরও কিছু সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক আছে। এরকম পরিস্থিতিতে আরও ৩টি ব্যাংক অনুমোদন করা আমি যৌক্তিক মনে করি না। কারণ আগের ব্যাংকগুলোর মতো এই ব্যাংকগুলোরও খারাপ পরিস্থিতি হতে পারে। আর যদি অর্থনীতির দিক থেকে দেখা হয় তবে নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। শুধু প্রয়োজন নেই তা নয়, উচিতও হবে না। কারণ কোনো পলিটিক্যাল কারণে অর্থনৈতিক কাজ কর্ম করা উচিত হবে না।

দেশে প্রায় অর্ধ-শতাধিক ব্যাংক রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বর্তমানে ব্যাংকিং সেক্টরের অবস্থা এখন কেমন?

জবাবে ইব্রাহিম খালিদ বলেন, এখন অনেক খারাপ অবস্থা। সরকারি ব্যাংকগুলো ২৮ শতাংশ ক্লাসিফায়িড লোন রয়েছে কিন্তু মনে করা হচ্ছে আরও কিছু ক্লাসিফায়িড লোন ধামাচাপা রয়েছে। ক্লাসিফায়িড লোন যদি ২৮ শতাংশ ধরি তাহলে সেটাকে স্বাভাবিক রেট বলা যায় না। ব্যাংকগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে জনগণের টাকা থেকে যে বাজেট আসে সেই বাজেট থেকে রাষ্ট্রয়াত্ব ব্যাংকগুলোকে টাকা দেওয়া হয়, সেটাতো ঠিক না। কারণ, ব্যাংকগুলো লভ্যাংশ থেকে টাকা দেয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। প্রাইভেট ব্যাংকগুলো কোম্পানির টেবিলে বিতর্কিত

ব্যাংককের এই অবস্থার জন্য গ্রাহকরা কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে?

ইব্রহিম খালিদ বলেন, তারা এখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি কিন্তু হবে কি না সেটা জোর দিয়ে বলতে পারছি না। কারণ, রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকের বাজেট থেকে টাকা দেওয়া হচ্ছে। এইজন্য গ্রাহক পর্যায়ে ক্ষতি হচ্ছে না। কিন্তু যদি এভাবে বলি যে, বাজেটের টাকা তো জনগণের টাকা, তাহলে অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্ষতির জায়গা হচ্ছে, জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে উন্নয়ন হতে পারতো।