কসমেটিক উন্নয়ন দিয়ে দেশের কোনো লাভ হচ্ছে না : আমির খসরু

খন্দকার আলমগীর হোসাইন : গণতন্ত্র বাদ দিয়ে দেশবাসীকে সরকার দেশের উন্নয়নের কথা বলছে। জনগণের উন্নয়ন কী আসলেই হচ্ছে। হচ্ছে না। উন্নয়ন হচ্ছে আওয়ামী লীগ দলীয় লোকদের। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে, তাদের দুই বেলা ডাল-ভাত খাওয়া মুশকিল হয়ে পড়েছে। ৬০-৭০ টাকায় চাল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম পরিশোধ, মানুষের ত্রাহি অবস্থা। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছেÑ দৈনিক আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, দেশে আজকে কর্মসংস্থান নেই বললেই চলে। যেটুকু আছে তাও আওয়ামী লীগের লোক না হলে কাজ হয় না। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যেখানে গিয়ে দাঁড়িয়েছে, সাধারণ মানুষ কঠিন অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। সরকার যা করছে তা হচ্ছে কসমেটিক উন্নয়ন। এ ধরনের কসমেটিক উন্নয়ন দিয়ে দেশের কোনো লাভ হচ্ছে না। আজকে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। জীবনের নিরাপত্তা আজ সুদূর পরাহত। কোনো কিছুতেই জবাবদিহিতা নেই। এক হরিলুট অবস্থা বিরাজ করছে। টাকা কামানোর নজিরবিহীন প্রতিযোগিতা চলছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রামগঞ্জে, শহরে যারা আওয়ামী করে তারা ভালো আছে। চাকরি-বাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য সব তাদের দলের নেতাকর্মীদের হাতে। সব সেক্টরই এখন একছত্র নিয়ন্ত্রণ আওয়ামী লীগের। সব সরকারি প্রতিষ্ঠান দখল করে নাগরিকের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বিচারবিভাগ থেকে শুরু করে সব প্রতিষ্ঠান দলীয়করণে আকুণ্ঠ নিমজ্জিত। জনগণের ভোটাধিকার আগেই কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বিদেশে তাদের ব্যাংকের একাউন্ট মোটা হচ্ছে। বিদেশে বাড়ি করছে, সম্পদ বাড়ছে।

আর এটাই হচ্ছে আওয়ামী লীগের উন্নয়ন।সাবেক এই মন্ত্রী আরও বলেন, সারাবিশ্বে যেখানে বিদ্যুতের দাম কমছে আর আমাদের দেশে বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে। যেখানে বিদ্যুতের দাম কমানোই ছিল যৌক্তিক। কে শোনে কার কথা। এর ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ও বড় বড় প্রজেক্টের নামে সাধারণ মানুষের পকেট কেটে বিদেশে টাকা পাচার করে সেকেন্ডহোম করা হচ্ছে। লাভবান হচ্ছে দলীয় বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো। এটা তো একটা গণতান্ত্রিক দেশে চলতে পারে না।

সম্পাদনা : আশিক রহমান