দুর্বল ব্যবস্থাপনায় কমছে সুন্দরবনের মাছ : বিলুপ্তির আশংকায় ২০০ প্রজাতি

মতিনুজ্জামান মিটু : সুন্দরবনে মাছ আহরণের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে কমছে। মৎস্য অধিদপ্তরের গত তিন বছরের খতিয়ান পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা গেছে। এই সঙ্গে বিলুপ্তির আশংকায় পড়েছে ২০০ প্রজাতির মাছ। দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণেই সুন্দরবনে মাছের এই বেহাল দশা বলে জানিয়েছেন একজন মৎস্য কর্মকর্তা। ২০১৩-২০১৪ বছরে সুন্দরবনে মাছ আহরণের পরিমাণ ছিল ১৮হাজার ৩৬৬ মেট্রিক টন। ২০১৫-২০১৬ সালে আহরণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৮৭০ মেট্রিক টন। ২০১৪- ২০১৫ তে এখানে মাছ আহরণ হয়েছিল ১৭ হাজার ৫৮০ মেট্রিক টন।

অনুরুপ বক্তব্য দিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর একজন মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, সরকারি বেসরকারি কোন পক্ষ থেকেই সুন্দরবনে মাছ চাষ হয়না। প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন মাছই প্রতিবছর শিকার বা আহরণ করে সরকারি নথিভুক্ত করা হয়। সুন্দরবনে কি কি মাছ বা মাছ জাতীয় প্রাণি কি পরিমানে মজুদ ছিল এবং বর্তমানে আছে তার কোনো হিসেবও নেই। মোট কথা সুন্দরবনের মৎস্য সম্পদ বিষয়ে পরিস্কার কোনো ধারণাও পাওয়া যায়না। সুন্দরবনের সামগ্রিকভাবে মাছের ওপর কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা হয়নি। ফলে মাছের বর্তমান অবস্থা, বিলুপ্ত মাছ, বিলুপ্তপ্রায় মাছের ওপর উপাত্ত নির্ভর তথ্য পাওয়া যায় না। শুধু, মানুষ যেসব মাছ খায় এবং যেসব মাছ রপ্তানি উপযোগী তা চিহ্নিত করা হয়েছে।

দুর্বল ব্যবস্থাপনাই মূলত সুন্দরবনে মাছের বেহাল দশার জন্য দায়ী। সুন্দরবনসহ উপকূলীয় এলাকার খাল-বিলে নির্বিচারে বিষ দিয়ে প্রায়ই মাছ শিকারের মহোৎসব চলে। বিষ দিয়ে মাছ ধরার কারণে ধ্বংস হচ্ছে বিভিন্ন মাছের পোনা এবং সুন্দরবনের ভিতরে খালের বিষাক্ত পানি পান করে মরছে বন্যপ্রাণি। বিষ দিয়ে মাছ ও চিংড়ি রেণু আহরণের ফলে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে এখানকার বন্যপ্রাণিসহ মৎস্য ভান্ডার।

সুন্দরবনের ১ হাজার ৮০০ বর্গকিলোমিটার জলাভূমির মধ্যে ৮০০ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র উপকূল ও বনের ভিতরে জলাভূমির আয়তন ৯৬০ বর্গকিলোমিটার। মাত্র কয়েক বছর আগে এই জলাভূমিতে প্রতি বর্গকিলোমিটারে মাছের উৎপাদন ছিল ৪ মেট্রিক টনের বেশি। বছরজুড়ে বনের ভিতরে নেট জাল দিয়ে চিংড়ি পোনা। এতে ধ্বংস হচ্ছে অন্যান্য মাছের পোনা। পোনা আহরণে রাজস্ব আয়ের চেয়ে বহুগুণ বেশি ক্ষতি হচ্ছে বন্যপ্রাণি ও মৎস্য সম্পদ। নির্বিচারে মাছ শিকারে বিলুপ্ত হওয়ায় আশংকায় রয়েছে সুন্দরবনের ২০০ প্রজাতির মাছ।

সুন্দরবনে মাছের দেখভাল করে বনবিভাগ। মৎস্য অধিদপ্তরের এখানে কোনো কাজ নেই।