রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দু’দেশের চুক্তি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ : সি আর আবরার

এনামুল হক : আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনী অত্যাচারকে গণহত্যা বলছেন। কেউ জাতিগত নিধন বলছেন আবার কেউ সে দেশের সামরিক বাহিনীর উপর নিষেধাজ্ঞা জারির কথা বলছেন। আবার কেউ কেউ বাণিজ্য অবরোধের কথাও বলছেন। এমন পরিস্থিতিতে মিয়ানমার সাথে এ ধরনের একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে সরকার কেন গেল এটা বোধগম্য নয়। টিভিএনএ কে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন, রামরুর নির্বাহী পরিচালক ড. সি আর আবরার চৌধুরী।

 

তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত হওয়ার প্রায় তিন মাস হয়ে গেলো। মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি না হলেও সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর হয়েছে। এটার আইনগত কি ভিত্তি আছে সেটা নিয়ে প্রশ্ন আছে। তবে অবশ্যই সমঝোতা স্বারকের যতটুকু ভিত্তি আছে, এটা তার চেয়েও দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে বলে আমর ধারণা।

 

এখানে দুমাসের মধ্যে রোহিঙ্গা ফেরত প্রক্রিয়া শুরু এবং তিন মাসের মধ্যে জয়েন্ট গ্রুপ ওয়ার্কিং কমিটি কাজ শুরু করবে বলা হয়েছে। কিন্তু এখানে বাংলাদেশের যে পূর্ববর্তী অবস্থান ছিল, সেটা একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা আলোচিত হয়েছে। কিন্তু এই চুক্তির মধ্যে সে বিষয়টি নেই। একইভাবে বাংলাদেশ বলেছিল প্রত্যাবসনের সাথে জাতিসংঘের সম্পৃক্ততা থাকতে হবে। কিন্তু এ বিষয়টিও চুক্তির মধ্যে নেই। যেটা আছে সেটা হল প্রত্যাবাসনের সময় জাতিসংঘ চাইলে অন্য রাষ্ট্রগুলোকে সংযুক্ত করতে পারবে। কিন্তু ভেরিফিকেশন যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেখানে কিন্তু পর্যবেক্ষক রাখা হয়নি। এটাও কিন্তু একটা বড় রকমের সমস্যা আমাদের দিক থেকে হতে পারে।

 

সি আর আবরার বলেন, চুক্তিতে রোহিঙ্গারা সেখানকার নাগরিক কি না এ বিষয়ে দালিলিক প্রমাণের উপর জোর দেয়া হয়েছে। কিন্তু যারা গণহত্যা ও নিগ্রহের শিকার হয়ে শুধু জীবনকে পুঁজি করে পালিয়ে এসেছে, তাদের পক্ষ থেকে এখন নাগরিকত্বের প্রমাণ দেওয়া সম্ভব নয়। আমরা বিভিন্নভাবে জানতে পেরেছি মিয়ানমার সেনাবাহিনী এগুলো তাদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে দালিলিক প্রমাণ হাজির করা রোহিঙ্গাদের পক্ষে অসম্ভব। আমাদের সরকার বলেছিল যে ৯২ এর আদলে চুক্তি মানা হবে না। কিন্তু কার্যত দেখা যাচ্ছে ৯২ আদলেই এই চুক্তিটা করা হয়েছে এবং বাস্তবায়নও হবে। বাংলাদেশ বহুপাক্ষিকতার উপর জোর দিয়ে আসছিল। এখন সরকার হয়তো মনে করছেন এর মাধ্যমেই আমাদের স্বার্থ সংরক্ষিত হচ্ছে। কিন্তু আমরা যারা কিছুটা হলেও শরণার্থী নিয়ে কাজ করি, আমাদের বিবেচনায় এ চুক্তি খুব একটা ফলপ্রসূ হবে বলে আমরা মনে করি না।

 

এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যর্থ ও মিয়ানমার সফল কিনা এই প্রশ্নের জবাবে আন্তর্জাতিক শরণার্থী বিষয়ক এ গবেষক বলেন, এটা ব্যর্থ বা সফল কিনা তার চেয়ে বড় কথা এ চুক্তি কতটুকু কার্যকর হবে। রোহিঙ্গারা এখন নিজ দেশে মর্যাদা এবং নিরাপত্তার সাথে ফিরে যেতে পারবে কিনা এটি এখন দেখার বিষয়। সেক্ষেত্রে আমি যেটা মনে করি এই চুক্তি বোধ হয় খুব একটা সহায়ক হবে না। আমার যেটা মনে হয় যে, অতীতে মিয়ানমারের আচরণ যদি আমরা বিবেচনার মধ্যে রাখি, তাহলে দেখা যাবে তারা টালবাহানা করবে। নগন্যসংখ্যক লোক তারা ফিরিয়ে নেবে। কিন্তু মর্যাদার সাথে যে পুনর্বাসন সেটা হবে না। সেটা হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।