পরিবারই নারীর প্রতি সহিংসতার প্রথম এজেন্সি, প্রতিরোধে দরকার শিক্ষা: ড. সাদেকা হালিম

জান্নাতুল ফেরদৌসী: পরিবার থেকেই নারীর প্রতি সহিংসতা শুরু হয়। আর বেশি ভাগ নারী পুরুষ কর্তৃক সহিংসতার শিকার হয়।নারীর ওপরে সহিংসতা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায় নিম্নবিত্ত পরিবারে। সহিংসতা প্রতিরোধে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, পরিবার, মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিকীকরণের ওপর জোর দিতে হবে বলে মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম।

শনিবার (২৫নভেম্বর) বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ দিবস। নারীর প্রতি সহিংসতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। নিরাপত্তার জন্য নারীদের আত্মরক্ষসহ নানা কৌশল শেখানো হয়। কিন্তু যারা সহিংসতার জন্য দায়ী তাদের শিক্ষা ও সচেতনতা কতটা হচ্ছে?

এ প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, নারীর প্রতি সহিংতার জন্য মূলত পুরুষকে দায়ী করে থাকি। আমরা যত সহিংসতা দেখেছি সেগুলো পুরুষ কর্তৃক হয়েছে। অনেক সময় পুরুষ কর্তৃক অনুপ্রাণীত হয়ে নারীরাও নারীদের প্রতি সহিংসতা করে। এ ক্ষেত্রে সহিংসতা বন্ধে তাদের শিক্ষা দেয়ার প্রথম পর্ব পরিবার থেকে শুরু করতে পারি। কেননা সহিংসতার সবচেয়ে প্রথম এজেন্সি হচ্ছে পরিবার। একজন শিশু নারী বা পুরুষ হিসেবে জন্ম নেয় না। একজন শিশু কেবল শিশু হিসেবেই জন্ম নেয়। তখন শিশুটিকে আমরা যেভাবে গড়ে তুলি সেখানেই লিঙ্গ বৈষম্য, সামাজিক বৈষম্যের মাধ্যমে সহিংসতার বীজটা বপণ করা হয়ে থাকে। সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ায় সব সময় পুরুষকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়। পরিবারের একটি শিশু যদি দেখে, বাবা তার মাকে নির্যাতন করছে, তখন সে মনে করে এটি সামাজিকীকরণের একটি অংশ।

নারী পুরুষের যে সম্পর্ক বা নারীর প্রতি সম্মান বোধের ক্ষেত্রে পরিবারের যে শিক্ষা বা সংস্কৃতি থাকা দরকার সেটা বাংলাদেশে সেই অর্থে গড়ে ওঠেনি বলেই কী নারীর প্রতি সহিংসতা?

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঠিক সেই ভাবে সাধারণীকরণ করব না। এখন শিক্ষার অনেক প্রসার ঘটেছে, বেসরকারি সংস্থাগুলো কাজ করছে। অর্থনৈতিক কাজে নারী পুরুষের অংশগ্রহণ দেখলে বোঝা যায় নারীরা অনেকদূর এগিয়ে গেছে। অনেক সময় আমরা দেখছি সহিংসতা নিম্নশ্রেণির মানুষের মধ্যে এখনো অনেক বেশি সহিংসতা আমরা দেখি। মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্ষেত্রে দেখা যায় নারীকে সম্মান দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কতগুলো জায়গায় আমরা দেখছি একবারে নিম্নশ্রেণির মানুষের মধ্যে এই সহিংসতার প্রবণতা বেশি।

অনেক সংস্থা নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করার জন্য কাজ করে। নির্যাতন কারীর মনের ধারণাটা পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে সেই সংস্থাগুলো কতটা মনোযোগ দিচ্ছে?

অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, এটা খুবই জটিল জায়গা। আমরা যখন নারী নির্যাতনকারীদেরকে ধরি এবং আইনি ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যাই, তখন দেখা যাবে আমরা শাস্তি দাবি করি। কিন্তু মানুষের কাঠামো কেন এমন হলো, সামাজিকীকরণের প্রক্রিয়ায় কী ধরনের ব্যাঘাত ঘটেছে বা শিক্ষার ক্ষেত্রে কিসের ঘাটতি রয়েছে- আমি মনে করি বাংলাদেশে সহিংসতার সাথে যুক্তদের গবেষণা করা উচিত, নিবিড়ভাবে কথা বলা উচিত তাদের সাথে। কী কী কারণে তারা সহিংসতা করে, অথাৎ এই খোঁজটা যদি আমরা না পাই তাহলে সহিংসতার জায়গা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেখার চেষ্টা করি, অন্যান্য সূচকের মাধ্যমে দেখার চেষ্টা করি, তাহলে এত সহজে আমরা সহিংসতাটা রোধ করতে পারবো না

সূত্র- বিবিসি বাংলা