বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে: অনিল দাশ গুপ্ত

ফারুক নওয়াজ খান সুমন, প্যারিস থেকে: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ভাষন বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়ার আহবান জানিয়েছেন সর্ব ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি অনিল দাশ গুপ্ত। জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষনকে ‘মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ বা ‘বিশ্বের স্মৃতি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পর আজ বিশ্বের সব দেশে ভাষনটি ছড়িয়ে দেয়া প্রতিটি বাঙ্গালীর দায়িত্ব বলে জানান তিনি।

সর্ব ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, মাত্র ১৮ মিনিটের একটি ভাষনের মাধ্যমে একটি দেশকে স্বাধীন করা হয়েছিলো্। সে ভাষন যিনি দিয়েছিলেন তিনি বিশ্ব রাজনীতির মহাকবি এবং বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭১ সালের সাতই মার্চ এ ভাষন দেয়ার পর সমগ্র বাঙ্গালী জাতি স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যায়। এ ভাষনে দেশ পরিচালনা এবং শত্রুর আক্রমন মোকাবেলা করার যাবতীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছিলো। বঙ্গবন্ধুর এ ভাষন শুনে সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালী এক হয়েছিলো সে সময়। হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে এনেছিলো বীর বাঙ্গালীরা।

তাদের অনুপ্রেরনার উৎস এ ভাষণটিকে ‘মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ বা ‘বিশ্বের স্মৃতি’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ইতিহাসের সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে মনে করেন অনিল দাশ গুপ্ত। তিনি বলেন, ইউনেস্কো স্বীকৃতি দিয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে এখন আমাদের দায়িত্ব বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে এ ভাষনের মর্মার্থ ছড়িয়ে দেয়া। এ ভাষনকে উপলদ্ধি করানোর জন্য এটি দরকার। এর পাশাপাশি বিশ্বের প্রতিটি দেশে এ ভাষনের মুল কপি এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষায় তা অনুবাদ করে স্বপ্রনোদিত হয়ে প্রচার করা আমাদের দায়িত্ব।

ইতিমধ্যে সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষনের রেকর্ড এর সিডি এবং তার অনুবাদ ইউরোপের কয়েকটি দেশের রাজনীতিক, শিক্ষাবিদ এবং সমাজ বিজ্ঞানীদের কাছে পৌছে দেয়ার জন্য ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এ বর্ষীয়ান রাজনীতিক।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ অক্টোবর সোমবার প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দফতরে সংস্থাটির মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা এক বিজ্ঞপ্তিতে, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) দেয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্বালাময়ী ওই ভাষণটিকে ‘ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ (প্রামাণ্য ঐতিহ্য) হিসেবে ঘোষণা করেন।
এছাড়া, এমন কালজয়ী ভাষণ প্রদান এবং দেশকে স্বাধীনতা এনে দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করায় নিউজউইক ম্যাগাজিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘রাজনীতির কবি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ১৮ মিনিট স্থায়ী এই ভাষণে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর জ্বালাময়ী সেই ভাষণে উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত হয়েই বাঙালি জাতি ছিনিয়ে আনে স্বাধীনতা।
১২টি ভাষায় ভাষণটি অনুবাদ করা হয়।