সাক্ষাৎকারে এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া
বেগম জিয়া এবং নির্বাচনকে আওয়ামী লীগ ভয় পায়

খন্দকার আলমগীর হোসাইন : বেগম জিয়া এবং নির্বাচনকে আওয়ামী লীগ ভয় পায়। আর সে কারণে বেগম জিয়াকে সাজা এবং বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। দৈনিক আমাদের অর্থনীতির সাথে আলাপকালে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির আইন সম্পাদক এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া এসব কথা বলেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে ভয়টা কোথায় আওয়ামী লীগের? নির্বাচনকালীন সময়ে একজন মন্ত্রী যখন আমার সাথে নির্বাচন করবেন তখন তিনি পুলিশি নিরাপত্তায় থাকবেন। আর আমার কাছে পুলিশ আসবে কারা আমার কাছে আসছে, তাদের গ্রেফতার করতে। কেন সংবিধান সংশোধন করে আওয়ামী লীগ প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচন করার পদ্ধতি আনলেন? কারণ, আওয়ামী লীগ কাউকে বিশ্বাস করে না। যে সংবিধানের জন্য যুদ্ধ হলো, সে ৭২-এর সংবিধানেও এ ধরনের প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচনের কথা বলা নেই। আওয়ামী লীগ বলছে, সংবিধান ৯০ দিন আগে ভেঙে দেবে, তাহলে তো তারা সংসদ সদস্য থাকেন না। ভেঙে দেয়া সংসদ তো ডাকা যায় না। আবার বলছেন, সংসদ বহাল রেখে নির্বাচনকরবেন।

আপনি প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও এমপির ক্ষমতায় থেকে কিভাবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করবেন। আমার কাছে যেটা মনে হয়, আওয়ামী লীগের মনে ভয় ডুকেছে, তাদের জিতার সম্ভাবনা খুব কম। তাদের শক্তি হলো পুলিশ বাহিনী। নিরপেক্ষ কারও অধীনে যদি নির্বাচন হয়, তখন তো পুলিশ থাকবে না। আর জনগণ যখন এসে যাবে, তখন গত পাঁচ বছরের একটা হিসাব তো তারা চাইবে। সে হিসাব তো জনগণকে দিতে হবে। সেটাই তাদের ভয়।

 

বেগম জিয়ার মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে বিচারপতি প্রত্যেক সপ্তাহে সপ্তাহে তারিখ দিচ্ছে। কার্যত বিচার বিভাগে এখন স্বাধীনতা নেই। যেখানে প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে, সেখানে বেগম জিয়া ন্যায় বিচার কোথায় পাবেন। যত দ্রুত সাজা দেয়া যায় সে চেষ্টা হচ্ছে। সরকারের ইচ্ছা মতো তারিখ পড়ছে। বিচারকদের ইচ্ছা মতো নয়, সরকারই বাধ্য করছে সাজা দ্রুত দিতে। বিশেষ করে, আইন মন্ত্রণালয় বাধ্য করছে প্রতি বৃহস্পতিবার তারিখ দিতে। তড়িঘড়ি করে সাজা দেওয়ার একটা প্রবণতা লক্ষ করছি। এর একটা কারণ হতে পারে, বেগম জিয়া ও তার পরিবারবর্গকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা। সরকারের এসব অসৎ উদ্দেশ্য জনগণ সফল হতে দেবে না। আমরা একদিকে আইনগতভাবে এসব বানোয়াট মামলার মোকাবেলা করছি, অন্য দিকে রাজনৈতিকভাবে মাঠে আমরা এসব অপচেষ্টার মোকাবেলা করব।

শেখ হাসিনা ও বেগম জিয়ার নামে করা গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের মামলাগুলোর অবস্থা দেখেন। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম জিয়ার মামলাগুলো রেখে শেখ হাসিনার মামলাগুলো খারিজ করে দেয়া হলো। এক আদালতে তো দুই ধরনের বিচার হতে পারে না। একদিকে আপনারা নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা বলছেন, অন্য দিকে মামলা দিয়ে হয়রানি করছেনÑ এসব জনগণ বোঝে। আপনি যদি সত্যিকার অর্থে আমাদের নির্বাচনে আনতে চান, তাহলে কেন এই তড়িঘড়ি তারিখ দিয়ে সাজা দেয়ার চেষ্টা।

সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ