রোহিঙ্গা সংকট সমাধান প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. শফিক রহমান
মিয়ানমারের জেনারেলদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা ফলপ্রসূ হতে পারে

নাসরিন বৃষ্টি: সাউথ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শফিক রহমানের বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কিছুটা কার্যকরী হবে। কারণ, মিয়ানমারে সেনাবাহিনীকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমেরিকা ব্যাপক সহায়তা করে থাকে। স্বাধীন গণতন্ত্র করতে আমেরিকার যে ভূমিকা তাতে সারা বিশ্বের সমর্থন রয়েছে। সেক্ষেত্রে আমেরিকা যদি মিয়ানমারের সেনাবহিনীর বিপক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, বিশেষ করে কিছু জেনারেলের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে সেটা কার্যকরী হতে পারে।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা প্রসঙ্গে বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ড. শফিক রহমান এসব কথা বলেন।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নির্মূল অভিযান চালাচ্ছে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন জানিয়েছেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট করে নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে এমন ঘোষণার মাত্র একদিন পরেই পোপের মিয়ানমারের যাবার কথা রয়েছে। রেক্স টিলারসন বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর ধষর্ণ ও নির্যাতনের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার এবং দায়ীদের বিচার হতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ভাবনা মিয়ানমারে অবস্থান পরিবর্তনে কতোটা ভূমিকা রাখবে, জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. শফিক রহমান বলেন, মিয়ানমারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আগের অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। কারণ, এখন যে বিশ্বে বিভিন্ন রকম পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সিরিয়া, তুরস্ক এবং ইরানকে নিয়ে মিটিংয়ে বসছে। অন্যদিকে, চীনের সাথে বার্মার সম্পর্ক আরো শক্তভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। সবগুলো ঘটনা পরপর হয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাটা কিছুটা পিছিয়ে গেছে। আমেরিকার একটা নতুন রকম ভূমিকা সারা পৃথিবীতে নেয়া প্রয়োজন।

পুরো বিশ্বের ওপর আমেরিকার আধিপত্য বিস্তারের একটি পদক্ষেপ হিসেবেই কি তাহলে মিয়ানমারের ওপর যে নিষেধাজ্ঞার হুমকির কথা বলা হচ্ছে?

এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত ধর্মভিত্তিক, ভাষাভিত্তিক বর্ণভিত্তিক জাতিকে ধ্বংস করার চেষ্টার প্রতিবাদে, যেটা জার্মানিতে হিটলারের সময় হয়েছিল। যা বসনিয়াতেও হয়েছিলো। যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তকে যদি সংজ্ঞায়িত করা যায় তাহলে আমি বলব আমেরিকা সম্পূর্ণভাবে মিয়ানমার ও বার্মার প্রতি আগের নীতিমালা থেকে অনেকটা সরে এসেছে।

মিয়ানমারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থার পরিবর্তন কতটা শক্ত?

জবাবে তিনি বলেন, স্ট্রেট ডিপার্টমেন্টের ভেতরে দুই থেকে তিনটি ভাগ রয়েছে। কেউ চায় অন্যদেশের কোনো ব্যাপারে পদক্ষেপে যাবে না, তাদের কোনো সাহায্য করবে না। কিন্তু রেক্স টিলারসন সারা বিশ্বের সঙ্গে সু-সম্পর্ক বজায় রেখে ব্যবসা-বানিজ্য করার পক্ষে। এমন সিদ্ধান্তকে রাশিয়া ও চীনকে কোনঠাসা করার জন্য পলিসি হিসেবে দেখিছি।

সূত্র- বিবিসি বাংলা