বিনিয়োগ, অগ্রাধিকার ও গুরুত্বের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত পিছিয়ে: মোস্তাফিজুর রহমান

জান্নাতুল ফেরদৌসী: সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, এশিয়ার স্বল্পোন্নত দেশগুলোর তুলনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ পিছিয়ে। এর কারণ এ খাতে যতটা বিনিয়োগ, অগ্রাধিকার ও গুরুত্ব দেয়ার কথা ছিল সেটুকু দেয়া হয়নি। এক্ষেত্রে স্বচ্ছতারও ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

জাতিসংঘের বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা অ্যাঙ্কটাডের (ইউএনসিটিএডি) একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে টেকসই লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ পিছিয়ে। এজন্য শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে রূপান্তরমুখী জ্বালানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা দরকার। নতুন নতুন বিদ্যুতে সংযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি নবায়ণযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর দেয়ার পরামর্শ তাদের।

বাংলাদেশের বর্তমান ও অতীতের সব সরকারই বরাবরই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়ে আসছে। এরপরেও বিদ্যুৎ খাতে পিছিয়ে থাকার পেছনে কারণগুলো কি?

এমন প্রশ্নের জবাবে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ সমূহের প্রতিবেদন- ২০১৭ এর মূল প্রতিপাদ্য ছিলো অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। সেখানে স্বল্পোন্নত দেশসমূহের তুলনামূলকভাবে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এশিয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সাথে তুলনা করলে দেখা যাবে জ্বালানির লভ্যতা অনুযায়ী বাংলাদেশ কিছুটা পিছিয়ে আছে।

পিছিয়ে থাকার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে আমি মনে করি জ্বালানি খাতে যতটুকু অগ্রাধিকার, গুরুত্ব দেয়ার কথা ছিল সেটুকু দেয়া হয়নি। বর্তমান সরকার জ্বালানির ওপরে বেশ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং তার ফলেই মাথাপিঁছু লভ্যতা লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি এসে পৌঁছেছে। কিন্তু তারপরও অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য, বিশেষ করে টেকসই উন্নয়নের ৭ নম্বর গোল রয়েছে সেখানে বলা হয়েছে, সবাইকে মানসম্মত জ্বালানি দিতে হবে। সেটার প্রেক্ষাপটে আমরা এখনো পিছিয়ে আছি। পিছিয়ে থাকার বড় কারণ হলো, এ খাতে যে ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন সেটা এখনো করা হয়নি। আমাদের অগ্রগতি হয়েছে কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী হয়নি।

সৌরবিদ্যুৎ বা নবায়ণযোগ্য জ্বালানির প্রতি উন্নতদেশগুলোর আগ্রহ বাড়ছে। বাংলাদেশেও বেড়েছে। কিন্তু পুরোপুরি সাফল্য পাওয়া যাচ্ছে না কেন?

ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে গবেষণা হচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশে এর ব্যবহারও হচ্ছে। তবে সৌরবিদ্যুতে অর্থনৈতিকভাবে লাভবানের ক্ষেত্রে এখনো অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। ২০৪১ সালের পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫৫ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ এবং অন্যান্য নবায়ণযোগ্য জ্বালানি আসবে ৫ শতাংশ। আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে গ্যাস, তেল, এলএনজি, কয়লার দিকে। যেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া কোনো ভাবেই সম্ভব নয় সেখানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হবে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ কতটা, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এলএনজি, বিভিন্ন পাওয়ার প্ল্যান্টেও বিদেশি বিনিয়োগ আসছে।

সূত্র- বিবিসি বাংলা