বিবিসির সাক্ষাৎকারে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক
সাভার-মানিকগঞ্জে পানির খনিতে ৪০ বছরের সুপেয় পানি মজুদ আছে

নাসরিন বৃষ্টি: আগামী মার্চ মাসেই সাভার ও মানিকগঞ্জের দুটি পানির খনি থেকে পানি উত্তোলন শুরু হবে জানিয়ে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী তাসকিন এ খান বলেছেন, খনি থেকে ১৫ কোটি লিটার করে পানি উত্তোলন করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। গবেষণা থেকে জানা গেছে, খনিতে ৪০ বছরের পানি জমা আছে। সূত্র- বিবিসি বাংলা

২০০৯ সালে সাভার-মানিকগঞ্জে সন্ধান পাওয়া দুইটি পানির খনি সম্পর্কে বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাৎকারে তাসকিন এ খান এসব কথা জানান। ওয়াসার তথ্যমতে, ওই দুইটি পানির খনির উৎস হিমালয় পবর্তমালার হিমবাহ। পলে খনির পানি কখনও ফুরাবে না।

এই দুইটি পানির ভান্ডারের বিস্তৃতি সম্পর্কে তাসকিন এ খান বলেন, পানির খনিটি ৬০০ ফিট নিচে আছে এবং এর বিস্তৃতি অনেকদূর পর্যন্ত।

হিমালয়ের সাথে ভূগর্ভস্থ পানির একটা সংযোগ রয়েছে, এখনও কি সেখান থেকেই পানি আসছে?

জবাবে তিনি বলেন,  সংযোগ রয়েছে। কারণ, এর ওপর আমরা গবেষণা করেই জানতে পেরেছি। সবচেয়ে ভালো খবর হলো, আমরা যদি ওখানকার পানির ব্যবহার নাও করি তবে পানি ওখানেই থাকবে।

খনি থেকে পাওয়া  পানি নিরাপদ কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অব্যশই। ভূগর্ভস্থ পানি নিরাপদ কিন্তু আয়রনের মাত্রা একটু বেশি। যার কারণে আমরা আয়রণমুক্ত করারও কথা ভাবছি।

দুইটি খনি থেকে সুপেয় পানি পাওয়ার বিষয়টি ঢাকা শহরের জন্য কী অর্থ বহন করে?

জবাবে তিনি বলেন, ঢাকা শহরে, বিশেষ করে মিরপুর এলাকায় পানির স্তর যেভাবে নামছে সেখানে অব্যশই খনি সহায়ক ভূমিকা রাখবে। আমরা কিন্তু ইতিমধ্যে আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছি। ভূগর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ভূ-পৃষ্ঠের উপরিভাগের পানির ব্যবহারের মাত্রা বাড়াবো। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা ৭০ ভাগ ভূ-পৃষ্ঠের উপরিভাগের পানি ও ৩০ ভাগ ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার নিয়ে আসব। যা সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব ও টেকসই হবে।

এই পানি ঢাকাবাসীর জন্য কতদিনে যেতে পারে বলে আপনার ধারণা?

২০১৮ সালের মার্চ মাসে যাবে বলে আশা করছি। যা সর্বপ্রথম মিরপুরে সাপ্লাই দেয়া হবে। কারণ খনি থেকে মিরপুরের দূরত্ব কম।