আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে গুঞ্জন
রাজনীতিতে কিছুই নাকচ করা যায় না: সাক্ষাৎকারে কাদের সিদ্দিকী

প্রতিবেদক: বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তমের নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নির্বাচনী জোট বাঁধছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে- সমসাময়িক রাজনীতিতে বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে এমন গুঞ্জন। গত শনিবার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নাগরিক সমাবেশে তার উপস্থিতি সকলের সবিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

কাদের সিদ্দিকী অবশ্য এ নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছেন না এখনই। তার ভাষায়, সময়ই নিয়ামক শক্তি। তা ছাড়া রাজনীতিতে কিছুই নাকচ করা যায় না। রাজনীতিতে শেষ কথা বলেও কিছু নেই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার নেতা। তার জন্মও আওয়ামী লীগে। তবে সেই আওয়ামী লীগের চরিত্রে প্রশ্নবিদ্ধ পরিবর্তন আসায় দুঃখবোধ রয়েছে তার।

সমকালের সঙ্গে আলাপকালে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, নির্বাচনী জোট গঠন প্রসঙ্গে তাকে নিয়ে অনেকে অনেক কিছু ভাবতেই পারেন। তার রাজনীতিতে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর উজ্জ্বল উপস্থিতি। আবার মতের অসম্মান কিংবা আসমান-জমিন পার্থক্যেও থাকবেন না। সেই সঙ্গে একদিন যারা পিঠের চামড়া তুলে নেওয়ার কথা বলে বঙ্গবন্ধুকে অসম্মান করার মতো দুঃসাহস দেখিয়েছেন, তাদের সঙ্গেও যাবেন না তিনি।

আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা এখনও তাকে ভালোবাসেন বলে মনে করেন কাদের সিদ্দিকী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক অনুভূতির প্রতিও বিশাল শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে তার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে খুবই ভালো জানেন। তার মতামতকে গুরুত্ব দেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাঘা সিদ্দিকী হিসেবে খ্যাত কাদের সিদ্দিকী ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। এ জন্য দীর্ঘ ১৬ বছর ভারতে নির্বাসনে থাকতে হয়েছিল তাকে। জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে প্রথম সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় খেতাব বীরউত্তম পদকপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান এই নেতা টাঙ্গাইল-৮ আসনের সাবেক এমপি।

নির্বাচনী জোট গঠন নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ডাকলে সাড়া দেবেন কি-না- জানতে চাইলে কাদের সিদ্দিকী বলেন, সেটা তখন দেখা যাবে। আর জোট হলেও দলীয় প্রতীক ‘গামছা’য় বড্ড ভালো লাগা এই নেতার। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি আমার রাজনৈতিক দলকে গলা টিপে হত্যা করতে পারব না। এ ক্ষেত্রে স্বাতন্ত্র্যবোধ তো থাকতেই হবে।’

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আরও জানিয়েছেন, তিনি আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির প্রতিপক্ষ নন। তবে নির্বাচনী জোট গঠনের চেষ্টা করছেন। সেই জোট আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির বাইরে থেকেও হতে পারে। আবার নাও হতে পারে। তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য চাই। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করি। এটা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের জন্যও বড্ড প্রয়োজন।’

ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে কোনো বিষয়ে একত্রিত হয়ে সামনের দিকে অগ্রসর না হতে পারাকে সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, সরকার শুধু নিজেদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করার মতো কেউ নেই। আওয়ামী লীগের দুর্দিনের নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দেওয়ার সাহস হারিয়েছেন। অন্যরা প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করতে ব্যস্ত। এতে জাতির কোনো মঙ্গল হচ্ছে না।

কাদের সিদ্দিকী প্রশাসনে দলীয়করণের বিষয়টিকে সরকারের ‘খারাপ কাজ’ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করতে না দেওয়া ভালো নয়। বিএনপি রাজনৈতিক কর্মসূচি দিচ্ছে না অথবা কর্মসূচি পালন করতে পারছে না- এ দুটোই বিপজ্জনক। তিনি আরও বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিরাপত্তা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। তার গাড়িবহরে যদি আওয়ামী লীগ হামলা চালিয়ে থাকে, তাহলে তা মোটেই ভালো কাজ নয়। বিএনপি যদি নিজেরাই হামলার ঘটনা ঘটিয়ে থাকে, তাহলে সেটা আরও বিপজ্জনক।

কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, গ্রামের মানুষ খুব কষ্টে আছে। সরকার সমর্থকরা গ্রাম পর্যায়ে যেসব অন্যায় কাজ করছে, তা কল্পনার বাইরে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বৈতরণী পেরোনোর বেলায় আওয়ামী লীগের জন্য বিএনপি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আসবে বলে মনে করেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ‘ইউনেস্কোর বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া উপলক্ষে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে যোগদান প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘মতের অমিল থাকলেই যে সেখানে যাওয়া যাবে না- তা কিন্তু নয়। আর ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আমাদের। নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের মুক্তির বাণী। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আমাদের জাতীয় সম্পদ। তবে এখন যারা বাড়াবাড়ি করছে, ৭ মার্চ তাদের নয়।’

সূত্র: সমকাল