হাতের ঘাম দূর করবে ‘এন্টি সোয়েট ডিভাইস’ : ড. সিদ্দিক-ই-রাব্বানি (ভিডিওসহ)

এ জেড ভূঁইয়া আনাস, মুহাম্মদ আল বাহলুল : হাত অতিরিক্ত ঘামানোর কোন স্থায়ী চিকিৎসা নেই। তবে দেশীয় আবিষ্কৃত ‘এন্টি সোয়েট ডিভাইস’ এর মাধ্যমে দশ দিন চিকিৎসা নিলে দেড় মাস পর্যন্ত হাত ঘামানো স্বাভাবিক থাকে। টিভিএনএ’কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং গবেষক ড. সিদ্দিক-ই-রাব্বানি।

তিনি বলেন, যন্ত্রটি ব্যবহার করলে মানুষের শরীরে কোন ধরণের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু অন্যান্য চিকিৎসায় পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। প্রথমে ২২ জন লোককে ফ্রি চিকিৎসা দেওয়ার পর তারা উপকৃত হওয়ার পর আমরা এটাকে বিক্রয়ের জন্য প্রস্তুত করি। এটি এখন ‘বাই-বিট’ নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবারহ করা হচ্ছে। ‘বাই-বিট’ একটি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানটি কোন মুনাফা ছাড়াই মানুষের কাছে ‘এন্টি সোয়েট ডিভাইস’ সরবারহ করে থাকে। বর্তমানে আট হাজার টাকা দামে এই ডিভাইসটি বাজারে সরবারহ করা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে এর দাম কিভাবে আরো কমিয়ে মানুষের হাতের নাগালে আনা যায় এর জন্য চেষ্টা চলছে।

ড. রাব্বানি বলেন, ১৯৫০এর দশক থেকেই দেশের বাইরে হাত অতিরিক্ত ঘাম প্রতিরোধি ডিভাইসের প্রচলন থাকলেও আমাদের দেশে ছিলো না। তাই ১৯৯০ সালে দেশের প্রখ্যাত একজন চর্ম চিকিৎসক ড. রেজা বিন জায়েদ প্রথম আমাদের এই ডিভাইস সম্পর্কে ধারণা দেন এবং দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি ডিভাইস আবিষ্কারে উৎসাহিত করেন। ডা. রেজার উৎসাহে আমরা চামড়ার কাছাকাছি সহনীয় বিদুৎ পরিবহনের লক্ষ্যে একটি ইলেকট্রিক সার্কিট তৈরি করি। ড. রেজাসহ আমার টিম তৎকালীন পিজি হাসপাতালে দীর্ঘ দুই বছর এই ডিভাইসটির পরীক্ষা চালিয়ে সফলতা পাই। যার নাম দেওয়া হয় ‘এন্টি সোয়েট ডিভাইস’। যা পাশ্চাত্যে এই ধরনের ডিভাইসের চেয়ে বেশি কার্যকর। পাশ্চাত্যে এই ধরণের ডিভাইসে শতকরা ৮৫ ভাগ সফলতা পেলেও আমাদের এই আবিষ্কারে ৯৮-৯৯ শতাংশ লোক উপকৃত হয়েছে।