নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা শীর্ষক সেমিনার!

সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, যুক্তরাষ্ট : নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা শীর্ষক সেমিনারে আলোচকরা বলেছেন, গণহত্যা অমানবিক নির্যাতন, নৃশংসতা রোহিঙ্গা মুসলমানরা বিশ্বের সবচেয়ে নিগৃহীত ভাগ্যবঞ্চিত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অন্যতম। রোহিঙ্গাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন, নৃশংসতা বাংলাদেশের জন্যও হুমকি। এটা একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। মিয়ানমার সাউথ-ইস্ট এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ স্থান চিটাগাংকে দখল করতে চায়।

 

বিশ্বনেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা শুধু নিন্দা জ্ঞাপনেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা। স্থানীয় সময় ১৯ নভেম্বর রোববার সকালে সিটির ইয়র্ক কলেজ মিলনায়তনে ‘রোহিঙ্গা সংকটের কারণ, উদ্বেগ এবং এর সমাধান’ শীর্ষক সেমিনারে আলোচকরা এ মন্তব্য করেন। মানবাধিকার সংগঠন, “হিউমেন রাইটস এন্ড ডেভলপমেন্ট ফর বাংলাদেশ (এইচআরডিবি)”র এ সেমিনারের আয়োজন করে।

 

এইচআরডিবি’র প্রেসিডেন্ট মাহতাব উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন, সেমিনারে আলোচকরা, মিয়ানমার সরকার উত্তর আরাকান (রাখাইন) রাজ্যে সেনাবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে সংখ্যালঘুদের নিধনযজ্ঞে লিপ্ত রয়েছে। সেখানে তারা রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিবির্চারে গণহত্যা করছে। নারী ও শিশুদের গণধর্ষণ, হত্যা নিপীড়নসহ রোহিঙ্গাদের হাজার হাজার বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে, এখনও দিচ্ছে। সেমিনারে মিয়ানমারে মুসলিম নিধনের শেষ কোথায় এমন প্রশ্ন উত্থাপন করে আলোচকবৃন্দ অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা বন্ধসহ তাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানান।

 

আলোচকবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মিয়ানমার সরকার সন্ত্রাসীদের পরিচয় দিতে গিয়ে সরকারি বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের পরিবর্তে ‘বাঙালি’ শব্দটি ব্যবহার করেছে। এটা পরিকল্পিত একটা ষড়যন্ত্র। সচেতন বিশ্ববাসীর মূল রহস্য বুঝতে মোটেও দেরি হয়নি। এ ঘটনার পর থেকেই সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে এ জাতিগোষ্ঠীকে নির্মূল করতে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ শুরু করে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় বৌদ্ধ যুবকরা। এতে নির্বিচারে নিরীহ রোহিঙ্গা নাগরিকদের গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়। বিশ্ব গণমাধ্যমগুলো বলছে, এ পর্যন্ত ৩ হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর জীবন বাঁচাতে দলে দলে রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে। জাতিসংঘ পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ সংখ্যা এরই মধ্যে তিন লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, পুলিশ, বর্ডার গার্ড ও বৌদ্ধ যুবকরা সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা নারী ও মেয়েদের ওপর যৌন সহিংসতা চালিয়েছে এটা সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘন।

 

রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক আচরণ করে তাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে অবৈধ হলে শতাব্দিব্যাপী কীভাবে সেখানে তারা রয়েছে? ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ নামে রোহিঙ্গাদের হত্যা বন্ধ করুন। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনের ফলে রোহিঙ্গারা নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হন। উপযোগ সেবার (বিদ্যুত, পানি, জ্বালানী) জন্য আবেদন করতে পারে না, স্বপরিচয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারে না। এজন্য প্রায় ৯০% রোহিঙ্গা বাস্তবিক অর্থে অশিক্ষিত।

 

আলোচকরা বিশ্বনেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা শুধু নিন্দা জ্ঞাপনেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা। আলোচকরা বলেন, “বুদ্ধং স্মরণং গচ্ছামি” “জীব হত্যা মহাপাপ” “অহিংসা পরম ধর্ম” তবে কি গৌতম বুদ্ধের সেই ত্যাগ বিনয় আর কিছুই কি নেই সেখানে? অসহায় মানুষ আর কত হবে এই অমানুষিক নির্মমতার শিকার।

 

মিয়ানমার সাউথ-ইস্ট এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ স্থান চিটাগাংকে দখল করতে চায়। রোহিঙ্গা বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে আরো শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে। সেমিনারে রাখাইন প্রদেশে অনতিবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ, মানবিক সহায়তা নিশ্চিতসহ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করার জোর দাবী জানান হয়। রাখাইন প্রদেশে সংঘটিত গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, জাতিগত নির্মূল ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত ও বিচারের আওতায় আনারও দাবি জানান আলোচকবৃন্দ। সেমিনারে প্যানেল আলোচকবৃন্দ দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।