বাদশাহ সালমানের পরে সৌদি আরবে অভ্যূত্থানের আশংকা

সাইদুর রহমান : বাদশাহ সালমানপুত্র মুহাম্মাদ ক্রমাগতই নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠছেন। বাবার বর্তমানেই যেন এখনই তিনি ‘কার্যকরী বাদশাহ’। রাজপরিবারের সকল সিদ্ধান্ত এখন তারই হাতের মুঠোই। যে কাউকে যখন ইচ্ছা জিজ্ঞাসাবাদের নামে গ্রেফতারির ক্ষমতা রাখেন। ক্ষমতার পথে সকল কাটা ইতিমধ্যেই সরিয়ে ফেলেছেন।

এখন অনেকের মনে সংশয় ঘুরপাক খাচ্ছে, বাদশাহ সালমানের পরবর্তীতে ক্ষমতা যখন পুত্রের হাতে যাবে তখন রাজ পরিবারের সকল সদস্যরাই কী তার একক মতাদর্শ মেনে নিবে। সকল সদস্যই কী তার অন্ধ তাবেদারি করবে। যদি না হয় তাহলে রাজপরিবারে অভূত্থান ঘটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। বিশেষত তরুণ রাজপুত্ররা।

বিরোধী সকল রাজপুত্ররা তার বিরুদ্ধে কাজ করতেই চাইবে। তাদেরও ক্ষমতার লিপ্সা রয়েছে। রয়েছে অর্থের মোহ। তখনই বাধবে গোলযোগ।

এ ধরণেই আশংকার কথা জানিয়েছে সৌদি আরবের এক সময়ের চিরশত্রু এখন মিত্র ইসরায়েলের দৈনিক হারেতজ। খবর খালিজ অনলাইন

তাছাড়া যুবরাজ এক গার্ডিয়ানের এক সাক্ষাতকারে সৌদি আরবকে নিয়ে যে মতামত ব্যক্ত করেছেন তা রীতিমতই আত্মঘাতি। তিনি সৌদি আরবের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং ধর্মীয় সংস্কার চান। সৌদি রাজবংশের মতাদর্শ পালটে দিতে চান। তিনি এখনকার রক্ষণশীল ওহাবী মতাদর্শে প্রতিষ্ঠিত সৌদি আরবকে পশ্চিমা লিবারেলির মত উদারপন্থি সৌদি আরব চান। মক্কা ও মদীনাকে ভ্যাটিকান ইসলাম করতে চান। অর্থ্যাৎ নিছক প্রার্থনাগার নগরী হিসেবে গড়তে চান। বাকি রাজ্যগুলোকে ‘উম্মুক্ত মডেল কিংডম’ বানাতে চান।

এদিকে সৌদি আরবের বিলনিয়ারদের গ্রেফতার করার কারণে তাদের মালিকানাধীন বিভিন্ন কোম্পানী ও তাদের শরীকদের কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে। বিলনিয়ারদের কোম্পাগুলোতে দুর্নীতির লেশ থাকলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে আশংকায় অনেক দেশী বিদেশী শরীক বিনিয়োগ থেকে হাত গুটিয়ে রেখেছেন। সৌদি অর্থনীতিতে বিরাট হৈচৈই ফেলে দিয়েছে উদ্যোক্তাদের বিরত থাকার কারণে।

পশ্চিমা গবেষকরা দাবি করেছেন, আর্ন্তজাতিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলো আর ছয় মাস অপেক্ষা করবেন সালমানপুত্রের স্থিতির সিদ্ধান্তের জন্য।

অন্যদিকে সৌদি অর্থনীতিতে যাদের অবদান বেশী তাদের গ্রেফতার করে এমন হোটেলে রাখা হয়েছে যেখানে ফোন ও টেলিভিশন পর্যন্ত নিষিদ্ধ। তারা গ্রেফতারি থেকে মুক্ত হওয়ার পর কী আবার বিনিয়োগে উৎসাহী হবেন না অন্যত্র সরিয়ে নিবেন এটাই এখন অনেকের দুশ্চিন্তার বিষয়। সূত্র : খালিজ অনলাইন।