সিলেটে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

আশরাফ চৌধুরী রাজু, সিলেট: সিলেটে স্বামীর চোখের সামনেই গায়ে পেট্রোল ঢেলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে দুই সন্তানের জননী হাসিনা বেগম।
গত রোববার রাতে সিলেটের গোয়াইটুলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। তবে হাসিনার পরিবারের দাবি নেশাগ্রস্থ স্বামী মোহন মিয়া স্ত্রীর শরীরে আগুন দিয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে। পুলিশ বলছে- হাসিনার শরীরে কেউ আগুন দিতে পারে, আবার হাসিনা নিজেও আগুন দিতে পারে। তদন্ত করলে সব সত্য বেরিয়ে আসছে। হাসিনা বেগমের বাড়ি ঢাকার নবাবপুরে। তার পিতা আব্দুর কাদের। প্রায় ১০ বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয় সিলেটের গোয়াইটুলা এলাকার যুবক মোহন আহমদের সঙ্গে। সেই থেকে তাদের প্রেম।
মোবাইলে প্রেমের সূত্র ধরে দুটি পরিবারের সম্মতিতে মোহন ও হাসিনা বিয়ের পিড়িতে বসে। বিয়ের পর হাসিনা স্বামীর বাড়ি সিলেটের গোয়াইটুলা এলাকায় চলে আসে। হাসিনার পরিবারের সদস্যরা জানান- বিয়ের পর মোহনের আসল চরিত্র তাদের কাছে প্রকাশ পায়। মোহন ছিল বেকার যুবক। নেশা করতো। নানা ধরনের নেশায় সে আসক্ত।
বিয়ের পর থেকে সে টাকার জন্য হাসিনাকে প্রায় সময় নির্যাতন করতো। এই নির্যাতনের মুখে থেকে দুই সন্তানের ভবিষ্যত চিন্তা করে হাসিনা মোহনের সংসার করে। এরই মধ্যে তাদের সংসারে দুটি সন্তান জন্ম নেয়। এর মধ্যে বড় ছেলে মোহাম্মদ আলীর বয়স ৭ বছর। আর মেয়ে মোহনা বেগমের বয়স সাড়ে ৪ বছর। সম্প্রতি সময়ে হাসিনার উপর স্বামী মোহনের নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। মোহনও বেশি করে নেশায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে। সে বারবারই হাসিনার কাছে টাকা আবদার করতো।
একদিন এক হাজার টাকার জন্য হাসিনাকে স্বামী মোহন মারধর করেছে। হাসিনার বাসার পাশেই স্বামী সহ বসবাস করে তার ছোটো বোন সাবিনা বেগম। তাদের পরিবারের দ্বন্ধ প্রায় সময় সাবিনা এসে মিঠমাঠ করে যেতেন। কয়েক মাস আগে সে হাসিনার পরিবারের কাছে যৌতুক হিসেবে মোটরসাইকেল দাবি করেছিল। পরে তাকে মোটরসাইকেলও দেওয়া হয়। গতকাল সাবিনা বেগম জানিয়েছেন- রাত দুইটার দিকে তাকে খবর দেওয়া হয় তার বোন ঝলসে গেছে। খবর শুনেই তিনি ছুটে আসেন। এসে দেখেন বাসার সামনে এম্বুলেন্সে হাসিনা শুয়ে আছে।
প্রায় সময় পানি পানি বলে কথা বলে। এ সময় তার মুখে পানি দেওয়া হয়। এর বেশি কোনো কথা সে বলতে পারেনি। ভোর হয়ে কিছু সময় পেরিয়ে গেছে। এমন সময় হাসিনার দেহ নিথর হয়ে পড়ে।
সাবিনা জানান- হাসিনার নিথর দেহ নিয়ে তারা ঢাকা মেডিকেলে গেলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ সময় ডাক্তাররা ধারনা করেন- পেট্রোলে হাসিনা জ¦লসে যাওয়ার পর মারা যেতে পারে। এদিকে- ঢাকা মেডিকেলে হাসিনার মরদেহের ময়না তদন্ত শেষে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় পিতার বাড়ি ঢাকার নবাবপুরে। সেখানেই সোমবার রাতে তাকে দাফন করা হয়। সাবিনা অভিযোগ করেন- ঘটনার দিন সন্ধ্যারাতে হাসিনার তার বাসায় এক হাজার টাকার জন্য গিয়েছিলেন। কিন্তু টাকা হাতে না থাকায় দিতে পারেননি। তিনি বলেন- হাসিনাকে তার স্বামী নির্যাতন করতো। নেশার টাকা না দেওয়ায় ঘটনার দিন হাসিনা বেগমের শরীরে আগুন ঢেলে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে- সিলেটের এয়ারপোর্ট থানার ওসি মোশারফ হোসেন গতকাল জানিয়েছেন- ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই তিনি এলাকায় ছুটে যান। গিয়ে দেখেন তারা পুড়ে যাওয়া হাসিনাকে নিয়ে ঢাকায় চলে গেছেন স্বামী সহ স্বজনরা। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এসেছেন। মোশারফ হোসেন জানান- হাসিনার শরীরে কেউ আগুন ধরিয়ে দিয়ে হত্যা করতে পারে কিংবা হাসিনা নিজে থেকে আগুন দিতে পারে। তদন্তের পর বিষয়টি জানা যাবে। সম্পাদনা: মোহাম্মদ আবদুল্লাহ মজুমদার