২০০৮ সালের নির্বাচন পরিচালনা পদ্ধতি এবং ফলাফল পূর্বপরিকল্পিত ছিল

মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বীর প্রতীক : বাংলাদেশে জনপ্রিয়তার শীর্ষে দুইজন নেতা আছেন। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ভারতের সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সম্প্রতিক প্রকাশিত ইংরেজি ভাষায় লিখিত তার আতœ্জীবনীর তৃতীয় খন্ডে বাংলাদেশ সম্পর্কে কিছু চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অতীতে আমরা যারা বলতাম, তারা বিভিন্ন সেকেন্ডারি তথ্য বা পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণের উপর ভিত্তি করে আমাদের মতামত প্রকাশ করতাম। কিন্তু এখন সেকেন্ডরি এভিডেন্স নয় বরং প্রাইমারি এভিডেন্সের উপর ভিত্তি করেই আমরা বলতে পারি যে, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচন পরিচালনা পদ্ধতি এবং ফলাফল পূর্বপরিকল্পিত ছিল। সেই যৌথ পরিকল্পনায় তৎকালিন ঢাকা এবং দিল্লি যৌথভাবে কাজ করেছিল। যেহেতু ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিএনপি সরকার ক্ষমতায় ছিল, সেহেতু যেকোনো প্রতিহিংসামূলক কারণে হোক বা তাদের নিজেদের মূল্যায়নে হোক, যেকোনো কারণে ভারত এবং মইনুদ্দীন-ফখরুদ্দীন সরকার মিলে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তটি গেজেট নোটিফিকেশনের মতো করে প্রকাশিত না হলেও প্রণব মুখার্জির ভাষায় আজ দশ বছর পরে এসে প্রকাশিত হলো। এটার সূত্র ধরেই বলতে চাই,এখনো একটি পরিকল্পনা আছে, যেনো বর্তমান প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা তার সরকার নিয়ে আগামি আরো ৫-১০ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারেন। বর্তমান রাজনৈতিক সরকার এবং শাসক দলের প্রতিদ্বন্ধি হচ্ছেন জাতীয়তাবাদী ঘরানার প্রধান দল বিএনপি। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ক্যারিসমেটিক জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য সরকার বদ্ধ পরিকর। যেমনটি না সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বেলায়ও করা হয়েছে। শুধুমাত্র মামলা দিয়েই তাকে কাবু করে রাখা হয়েছে। এরশাদের নামে বেশিরভাগ মামলার ফয়সালা বা প্রত্যাহার করে দু’একটি মামলা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। যাতে করে উনিশ থেকে বিশ হলে, পানের থেকে চুন খসলে তাকে চাপে রাখা যায়। তদ্রুপ মামলা মোক্কদ্দমার মাধ্যমে বর্তমান রাজনৈতিক সরকার বিএনপি চেয়ারপার্সনকে চাপে রাখতে চায়। উদ্দেশ্য তাকে মামলার রায়ের মাধ্যমে অযোগ্য ঘোষণা করলে তিনি আর নির্বাচনে যেতে পারবেন না। আপাত দৃষ্টিতে এটি কার্যকর মনে হলেও গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়, এটি একটি মারাতœক রাজনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টিকারী পরিকল্পনা। যার জন্য আওয়ামী লীগকে অনেক পশতাতে হবে। বিএনপির মতো একটি প্রধান দলের দলীয় প্রধান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মামলার রায় দিয়ে দূরে রাখলে সেটা বিএনপির প্রত্যক্ষ কর্মী এবং বেগম জিয়ার প্রতি অনুরক্ত কোটি কোটি ভোটারগণ কিভাবে নিবেন, তা চিন্তা করার জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি আহ্বান করছি। অর্থাৎ মামলা দিয়ে নির্বাচনি ময়দান থেকে এতো বড় একজন নেতাকে বাইরে রাখার মতো একটি রাজনীতি বিধ্বংসি, দেশ বিধ্বংসি এবং শান্তি বিধ্বংসি পদক্ষেপ আপনারা গ্রহণ করবেন না। বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোট কোনো অবস্থায়ই এই সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না।
পরিচিতি : চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি
মতামত গ্রহণ : লিয়ন মীর
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ