অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ইঙ্গিত

আমাদের সময়.কম
প্রকাশের সময় : 14/11/2017 -3:21
আপডেট সময় : 14/11/ 2017-4:05

তারেক : সামনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের কিছু বিষয়ে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সংসদের বাইরে থাকা বিরোধী দল বিএনপি। আশা-নিরাশার মধ্য দিয়েই চলছে নির্বাচনী রাজনীতি। বিশেষ করে বিএনপি নির্বাচনে আসবে কিনা-এ নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। দলের সাংগঠনিক অবস্থাও আশানুরূপ নয়। এমন অবস্থায় প্রায় দুই বছর পর গত রোববার মহাসমাবেশের মতো কর্মসূচি পালন করল বিএনপি। ফলে এ সমাবেশের দিকে নজর ছিল দল ও দলের বাইরে সবারই। নির্বাচন নিয়ে কী বার্তা দেন খালেদা জিয়া-মূল আগ্রহ ছিল সেটিই।

খালেদা জিয়ার বক্তব্য নিয়ে ইতোমধ্যেই রাজনীতিতে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না, হবে না’-এমন বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ। খালেদার জনসভার পরপরই ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়া যে ভাষণ দিয়েছেন, সেই ভাষণ শেখ হাসিনার প্রতি তার আক্রোশের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। সে সময় যে সরকার থাকবে, সেই সরকার পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো ‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার’ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তা করবে। পরদিন গতকাল সোমবার খালেদা জিয়ার নিরপেক্ষ নির্বাচন দাবিতে ‘কারো প্রতি আক্রোশের ব্যাপার নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘জনসভায় বেগম খালেদা জিয়া শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত অভিযোগ করেন নাই।’ তিনি বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা বা এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ যাবে না। এটা রাজনৈতিক বক্তব্য, এখানে কোনো আক্রোশের ব্যাপার নাই।’ এ নিয়ে গতকালও দুই দলের বেশ কিছু শীর্ষ নেতা পরস্পরের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন।

সমাবেশে খালেদা জিয়ার দেওয়া বক্তব্যকে ঘিরে কিছুটা হলেও উত্তপ্ত রাজনৈতিক অঙ্গন। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে চলছে নানা আলোচনা। যদিও আওয়ামী লীগ ঠিক এখনই নির্বাচন নিয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে অতটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে না; অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষেই এখনো তারা। তবে সমাবেশ করতে পেরে ও খালেদা জিয়ার বক্তব্যে কিছুটা হলেও বিএনপি নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। সমাবেশে অন্ততপক্ষে নির্বাচন পদ্ধতির ব্যাপারে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট এবং নির্বাচনী দাবির ব্যাপারে জন্ম নেওয়া সংশয়ও দূর হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

এ নিয়ে নানা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ চলছে রাজনীতির বাইরে নানা মহলেও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিএনপির সমাবেশ ও খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে ইতিবাচক রাজনীতি হিসেবেই দেখছেন। তাদের মতে, এই ইতিবাচক ধারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী রাজনীতিতেও অব্যাহত থাকবে। তারা বলছেন, খালেদা জিয়ার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সবাই যে নির্বাচনের দিকেই যাচ্ছে তার ইঙ্গিত রয়েছে। কিছু বোঝাপড়ার বিষয় রয়েছে। তবে এই সমাবেশ ও খালেদা জিয়ার বক্তব্য এবং সরকারের অবস্থান অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অবশ্য বিশ্লেষকরা এমনও বলেছেন, বিএনপিও জানে তাদের দাবি সাংবিধানিকভাবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। রাষ্ট্র পরিচালনার অতীত অভিজ্ঞতা তাদেরও রয়েছে। তার পরও এসব কথা বলতে হয় জনগণের সহানুভূতি পেতে, রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই।

বিএনপির সমাবেশে খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে কীভাবে দেখছে আওয়ামী লীগ-জানতে চাইলে দলীয় সূত্রগুলো জানায়, আগামী নির্বাচনেও ক্ষমতায় আসা নিশ্চিত করতে চায় আওয়ামী লীগ। তবে তা নিশ্চিত করতে কোনো দাবির কাছে নতিস্বীকার বা কারো কাছে কোনো ছাড় দেবে না দলটি। বিশেষ করে সহায়ক সরকার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা সংবিধানবহির্ভূত নির্বাচনকালীন কোনো সরকারের ফর্মুলা বা দাবি কোনোভাবেই মানবে না দলটি। সংবিধান অনুযায়ী গত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতোই নির্বাচিত সরকার অর্থাৎ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খালেদা জিয়া অসত্য বক্তব্য রেখেছেন। তিনি মিথ্যাচার করে জাতিকে বিভ্রান্ত করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী এ সরকারের অধীনেই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে এবং বিএনপিও নির্বাচনে অংশ নেবে বলেও জানান তিনি। এই নেতা বলেন, এসব বিএনপির রাজনৈতিক বক্তব্য। এত গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই।

অন্যদিকে বিএনপির ভাবনা প্রসঙ্গে দলীয় সূত্রগুলো জানায়, সমাবেশে খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচনের ব্যাপারে স্পষ্ট করে যে কয়টি কথা বলেছেন এতে তৃণমূল নেতারা বেশ উজ্জীবিত। শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন নয় জানিয়ে খালেদা জিয়া যে কথা বলেছেন তা নিয়ে সরকারকেও নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। বিএনপি নির্বাচনে আসবে এমন ধারণা গত দুই বছর থেকে সরকার পোষণ করে এলেও বেগম জিয়ার গতকালের অবস্থানের পর আওয়ামী লীগকেও নতুন করে ভাবতে হবে। তবে দলের নীতিনির্ধারকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে ইতিবাচক আভাস দিয়ে বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে যাবে। তবে সরকারকে এক ধরনের চাপের মধ্যে রেখে যতটুকু দাবি আদায় করা যায়। এর মধ্য দিয়ে দলের প্রতি সাধারণ মানুষের এক ধরনের সহানুভূতি তৈরি হবে। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি সহজ হবে।

এ ব্যাপারে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেন, দলের চেয়ারপারসন গত রোববার যে অবস্থান নিয়েছেন এবং দেশের মানুষ যেভাবে তাকে সাড়া দিয়েছেন তাতে বর্তমান সরকারের আর শেষ রক্ষা হবে না। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের যে দাবি বেগম খালেদা জিয়া জানিয়েছেন, এটা স্পষ্টই জনগণের আকাক্সক্ষার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ এবং রাজনৈতিক দাবি। এর সঙ্গে কারো প্রতি প্রতিহিংসা বা আক্রোশের ব্যাপার নেই। দেশনেত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না।

বিএনপির সমাবেশ থেকে নির্বাচনের ব্যাপারে কি বার্তা এলো-জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, বিএনপির নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন কিছু শব্দ যুক্ত হয়েছে। এক বছর ধরে সহায়ক সরকারের কথা বললেও রোববারের ভাষনে খালেদা জিয়া ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ’ ‘তত্ত্বাবধায়ক’ শব্দগুলো উচ্চারণ করেছেন। সহায়ক সরকারের কথা বলেননি। তা ছাড়া ইভিএম ব্যবহারের বিষয়টি ইসির ওপর নির্ভর করছে। বিশেষ করে খালেদা জিয়া নির্বাচনে সেনা মোতায়েন ও ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেওয়ার যে দাবি করেছে, সেটি হলে সর্বনাশ হবে। এমনিতেই নির্বাচনে সেনা থাকে, স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে। এখন ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দিতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। এটি সম্ভব নয়।

তাহলে খালেদা জিয়া এমন দাবি কেন করছেন-জানতে চাইলে এই শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, কিছু বোঝাপড়ার জন্য। চাপ প্রয়োগ করে যতটা আদায় করা যায়, সে লক্ষ্যে। খালেদা জিয়ার বক্তব্য ও বিএনপি সমাবেশ করতে পারার মধ্য দিয়ে এটি মনে হচ্ছে যে শেষপর্যন্ত সব দলের অংশগ্রহণে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে। এই সমাবেশ রাজনীতিতে শান্তিপূর্ণ অগ্রগতি। ইতিবাচক রাজনীতির লক্ষণ। নির্বাচনেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন বলেন, খালেদা জিয়ার বক্তব্যে নির্বাচনে যাওয়ার ইঙ্গিত পাচ্ছি। সব দল নির্বাচনের দিকেই যাচ্ছে। খালেদা জিয়াও রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়েরই রাজনৈতিক প্রজ্ঞা রয়েছে। সরকার বলছে বিএনপির দাবি মানবে না। আর বিএনপিও বলছে মানতে হবে। এগুলো রাজনৈতিক কথা। বিএনপিকে সমাবেশ করতে দেওয়া এবং খালেদার বক্তব্যে এটি বোঝা যাচ্ছে যে তারা নির্বাচনে যাবে। এই নির্বাচন বিশ্লেষক আরো বলেন, এখন বিএনপি যেসব দাবি করছে, সেগুলো জনগণের সহানুভূতি নেওয়ার জন্য। দলকে চাঙা রাখার জন্য। এগুলো যে সরকার মানবে না, সেটি তারা ভালো করেই জানে। কারণ তারাও রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে। বাস্তব অবস্থা বোঝে। সুতরাং সবাই নির্বাচনের দিকেই যাচ্ছে।

অবশ্য খালেদা জিয়ার ভাষণে দুই ধরনের ইঙ্গিত পাচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মিজানুর রহমান শেলী। তিনি বলেন, ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যাপারে যেমন সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি বিপজ্জনক সাংঘর্ষিক অবস্থা তৈরির আভাস রয়েছে। বিএনপি যেভাবে বলছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবে না। যদি না যায় তাহলে আবার সাংঘর্ষিক রাজনীতি দেখা দিতে পারে। যেকোনো অরাজনৈতিক শক্তির উদ্ভব হতে পারে। আঞ্চলিক রাজনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সুতরাং আমি বলব, সংকট সমাধানে পারস্পরিক আলোচনা-সমঝোতা দরকার। লজ্জা ভয় দ্বিধা থাকলে চলবে না। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’ প্রতিদিনের সংবাদ

এক্সক্লুসিভ নিউজ

যিশু নয়, রক্ষাকর্তা শি জিনপিং, মত চীনা খ্রিস্টানদের

মরিয়ম চম্পা : ঈসা মসিহ নয়, আপনার রক্ষাকর্তা শি জিনপিং... বিস্তারিত

নাগরিক সমাবেশ
সোহরাওয়ার্দীতে বাড়ছে নেতাকর্মীদের ভিড়

সজিব খান: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ... বিস্তারিত

কাশ্মীর উপত্যকায় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ৬জঙ্গি

আশিস গুপ্ত ,নয়াদিল্লি : কাশ্মীর উপত্যকায় জড়ো হয়ে নাশকতা করার... বিস্তারিত

কেউ যেন ইতিহাস বিকৃতির সুযোগ না পায়, অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর

সারোয়ার জাহান : মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি হওয়ার পরেও বাংলাদেশের মানুষ... বিস্তারিত

এখানে দাঁড়িয়ে আমার সেই দিনটির কথা মনে পড়ে: প্রধানমন্ত্রী

সারোয়ার জাহান : আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,... বিস্তারিত





আজকের আরো সর্বশেষ সংবাদ

Privacy Policy

credit amadershomoy
Chief Editor : Nayeemul Islam Khan, Editor : Nasima Khan Monty
Executive Editor : Rashid Riaz,
Office : 19/3 Bir Uttam Kazi Nuruzzaman Road.
West Panthapath (East side of Square Hospital), Dhaka-1205, Bangladesh.
Phone : 09617175101,9128391 (Advertisement ):01713067929,01712158807
Email : editor@amadershomoy.com, news@amadershomoy.com
Send any Assignment at this address : assignment@amadershomoy.com