সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের উত্থান
আধুনিকতার খোলসে ক্ষমতার পথ পরিস্কার, না কি জনকল্যাণ?

লিহান লিমা : এক সপ্তাহ আগে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত ২০১ জনকে আটক করা হয়েছে। প্রথমেই আটক করা হয় ১১জন রাজপুত্রকে। টেকনোক্রেট ও অন্যান্য উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়। সালমানের তৃতীয় শিকার হয়েছেন ব্যবসায়ী ও কর্পোরেট নেতারা।

রাজপুত্রদের আটকের মধ্য দিয়ে সালমান ‘হাউস অব সৌদ এর সদস্য ১৫ হাজার প্রিন্সকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। আগে ক্ষমতার যে বণ্টন ছিল তা খর্ব করা হয়েছে। নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ক্ষমতা বাদশা ও যুবরাজের মধ্যে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। সালমান পুলিশ, আর্মিসহ সৌদির সব নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। টেকনোক্রেট ও ব্যবসায়ীদের আটকের মধ্য দিয়ে সালমান সরকারী ও ব্যক্তিগত খাতগুলোকে বার্তা দিয়েছেন যে, কেউই ক্রুটির উর্ধ্বে নয়। খালেদ আল তুয়াইজিরি ও আমির আল দাবাগের মত ব্যবসায়ীদের প্রতিপত্তি রাজপরিবারের সদস্যদের ক্ষমতার চাইতে কিছু কম ছিল না। সৌদি কোষাগারে তাদের কোটি কোটি ডলারের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
তবে দুর্নীতি বিরোধী এই অভিযানে যুবরাজ ও তার ঘনিষ্ঠজনরা অস্পর্শ, কয়েক মাস আগে যুবরাজ ও বাদশা ফ্রান্সে ছুটি কাটাতে গিয়ে ৫৫০ মিলিয়নের ইয়ট ক্রয় করেছেন, খরচ করেছেন বিলিয়ন ডলার। কিন্তু সেই অর্থের পরিমাণ ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা সৌদি আরবে বিপদজনক।
কিন্তু দিনের শেষে এই গ্রেপ্তার কার্যক্রম যুবরাজের ক্ষমতা ও তারুণ্যে শক্তিরই বহিঃপ্রকাশ। ৩২ বছরের এই টগবগে যুবক নিজের লক্ষ্যে পৌঁছতে অর্থনীতি, দুর্নীতি, বেকারত্বের সঙ্গে লড়াইয়ের কথা বলেছেন। ভিশন ২০৩০ ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে চলছে গ্রেপ্তার ও আটক। সালমান ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছেন, কিন্তু এটি রাজপরিবারে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করেছে, ব্যবসায়ীদের ক্ষুদ্ধ করেছে যা পরবর্তীতে শঙ্কার কারণ হতে পারে। ব্যবসায়ীদের আটক সৌদি আরবের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা সৌদি ব্যবসায়ী ও কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে কোন চুক্তিতে আসতে স্বস্তি বোধ করবেন না। সৌদি আরবের আলেমরা ওয়াহাবি মতাদর্শের ওপর ভিত্তি করে এতদিন রাজ্য পরিচালনা করে আসছেন, সৌদি শরিয়া আদালত ওভাবেই সবকাজ করত। কিন্তু সালমান মধ্যপন্থী ইসলামের কথা বলেছেন। সরকার ধর্মীয় পুলিশদের ক্ষমতা হ্রাস করেছে।
কিন্তু সালমান শক্ত হাতে দড়ি ধরেছেন। দেশে তিনি তিনি সৌদি আলেম, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী ও ব্যবসায়ী নেতাদের শায়েস্তা করছেন। অন্যদিকে ইয়ামেনে সৌদি আগ্রাসন চলছে, কাতারের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে, হিজবুল্লাহের দিকটিও সালমান দেখছেন। এই সবকিছুই সৌদি অর্থনীতির সামর্থ্য পরীক্ষা করবে। এক সঙ্গে সালমানকে সব মোকাবেলা করতে হবে। যদি তিনি তার অর্থনৈতিক সংস্কার অর্জন করতে পারেন তবে যে কোন বাধার মুখেই তিনি আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবেন। কিন্তু যদি তার ভিশন বাস্তব রুপ লাভ না করে তবে জনগণের অসন্তুষ্টি তাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। ওয়ার্ল্ডভিউ