সাক্ষাতকারে ড. আতিউর রহমান
প্রবাসীদের টাকা পাঠাতে মোবাইল ব্যাংকিং বৈধ করা প্রয়োজন

জাফর আহমদ : প্রবাস থেকে দেশে রেমিটেন্স পাঠাতে মোবাইল ফিন্যান্সিং বৈধ করে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মোবাইল ব্যাংকিং উদ্বোধনকারী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান। তিনি বলেন, প্রবাস থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বৈধ পথে দেশে টাকা পাঠাতে পারলে প্রবাসীরা বিকল্প পথে যাবে না। এর মাধ্যমে দেশে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়বে। আমাদের সময় ডট কমের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে সব টাকা ব্যাংকিং চ্যানেলে আসছে না। এটা কতটা সত্য তা জানি না। নিশ্চয়ই বাংলাদেশ ব্যাংক এটা নিয়ে হিসাব করছে। তবে আমি মনে করি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকা মোবাইল ব্যাংকিং বিদেশ থেকে টাকা আনার জন্য বিধিসম্মত করে দেওয়া উচিত।

আতিউর রহমান বলেন, মরুভূমির মধ্যে থেকেও যেন প্রবাসীরা মোবাইল ফিন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠাতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এসবের জন্য ওই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংককে আলোচনা করতে হবে, এটা কঠিন নয়। ওই দেশের কেন্দীয় ব্যাংকে বাংলাদেশের দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংক রেমিটেন্স বাবদ একটি ‘নস্ট্র’ একাউন্ট খুলবে, ওই একাউন্ট থেকে ডলার দেশে পাঠাবে। ওই একাউন্টের সঙ্গে মোবাইল একাউন্ট লিঙ্ক করে দেবে। দরকার হলে এখানে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সেখানে প্রবাসীদের এজেন্সি দেবে। তখন অফিসিয়াল-ওয়ে রেমিটেন্স এলে আর তা বেআইনি হবে না। প্রবাসীদের জীবন তখন সহজ হয়ে যাবে। এ রকম কিছু প্রোঅ্যাকটিভ কাজ বাংলাদেশ ব্যাংককে করতে হবে।

রিজার্ভ প্রবাহে কিছুটা চাপ সৃষ্টি হয়েছেÑ এ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে আতিউর রহমান বলেন, রিজার্ভের উপর যে চাপটা পড়ছেÑএটা কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি টাকার অবমূল্যায়নে। টাকা যদি অবমূল্যায়িত হয় তা রপ্তানিকারকদের জন্য ভালো হবে, কিন্তু আমদানি যারা করবে তাদের জন্য খারাপ হবে। এ জন্য একটি সঠিক বিনিময় হার সবসময় রাখতে হবে। এ জন্য আমরা সবসময় স্থিতিশীল একটি বিনিময় হার আমরা করেছি। এবং বাংলাদেশ ব্যাংক হস্তক্ষেপ করে করে এই বিনিময় হারটা রেখেছে। এখনো করছে তারা।

হাওরাঞ্চলে বন্যায় ফসল নষ্ট হওয়ার পর প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে চাল আমদানি দেরি হয়ে গেছে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, সেসময় সঙ্গে সঙ্গে শুল্ক উঠিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। সেটা না করে একটু সময় নিয়ে শুল্ক ওঠানো হয়েছে, এতে ব্যবসায়ীরা চাল আমদানি করতে ইতস্তত বোধ করেছে। তিনি বলেন, এবার আমন ধানের ফলন ভালো হয়েছে, তা দিয়ে ঘাটতি কিছুটা পূরণ হয়েছে। এরপর বোরো ধান বাজারে চলে এলে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।