সোনালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ, দিশেহারা ঠাকুরগাঁওয়ের ২শ’ পরিবার (ভিডিও)

ফারমিনা তাসলিম: অনুদানের টাকা পাওয়ার আশায় টিপসই ‍দিয়ে প্রতারণার শিকার ঠাকুরগাঁওয়ের অন্তত দুইশ পরিবার। এখন অনুদানের বদলে ঋণের সুদ পরিশোধের নোটিশ পাঠিয়েছে সোনালী ব্যাংক। পুলিশি ঝামেলার ভয়ে এরইমধ্যে অনেকেই এলাকা ছেড়েছেন। ঘটনায় জড়িত দুই দালালের দাবি, তারাও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রতারণার শিকার। সূত্র- একাত্তর টিভি।

সৌদি আরব থেকে অনুদান এসেছে। এলাকার তরিকুল ও সোলায়মানের কথায় বিশ্বাস করেছিলেন ঠাকুগাঁও সদরের মাতৃগাঁও গ্রামের সাঁওতাল দম্পতি দুলহান ও হাওয়া মুমু। টাকা তুলতে টিপসইও দিয়েছিলেন সোনালী ব্যাংকের কাগজপত্রে। ঠিক এর দুই বছর পর ২০১৭ সালের অক্টোবরে ব্যাংক থেকে নোটিশ আসে সুদসহ ঋণ পরিশোধের। একই ‍ফাঁদে পা দিয়েছেন মাতৃগাঁওসহ আশেপাশের এলাকার কমপক্ষে দুইশ পরিবার, যাদের বেশিরভাগই ভূমিহীন।

অজান্তেই ঋণগ্রস্ত এলাকাবাসীরা দিশেহারা হয়ে জানান, ‍ঋণ সম্পর্কে তারা যদি আগে জানতো তাহলে তারা এই ফাঁদে পা বাড়াতেন না। অনুদান হিসেবে কাউকে দুই হাজার, কাউকে আড়াই হাজার, কাউকে তিন হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছিলো।

প্রতারণার অভিযোগ স্বীকার করে তরিকুল ও সোলায়মান জানান, ঋণ শোধ করতে হবে না- এমন শর্তে গ্রাহক সংগ্রহ করতে বলেছিল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এজন্য তারা গ্রাহকপ্রতি তিনশ থেকে পাঁচশ টাকা পেতেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদেরকে বলেছিল, দু’চার জন লোক নিয়ে আসলে তাদেরকে ভূমির ওপর লোন দেয়া হবে এবং সুদ দিতে হবে না।

অভিযোগের বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার বলছেন, কোন অনিয়ম হলে তা আগের কর্মকর্তার সময়ে হয়েছে। বর্তমানে তাদের ব্রাঞ্চ সম্পূর্ণ দালাল মুক্ত।

পুরো প্রতারক চক্রকে সনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, এ নিয়ে ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন করতে পারেন। যে ব্যক্তিরা এ ঘটনায় মধ্যসত্বভোগীর ভূমিকায় কাজ করেছিল তাদের সাহায্য করতে চাই।

ঋণের নোটিস অনুযায়ী দুইশ পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা ঋণের টাকা ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সোনালী ব্যাংকের সুগার মিল শাখা থেকে কৃষিঋণ হিসেবে ইস্যুকৃত হয়েছে। 

সুমন/