হুমায়ূন আহমেদকে সস্তা জনপ্রিয় লেখক হিসেবে আখ্যায়িত করা ঠিক হবে না : হাসান আজিজুল হক

আশিক রহমান : হুমায়ূন আহমেদের কিছু কিছু লেখা অবশ্যই স্থায়ী হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে পরবর্তীতে নাটক, সিরিয়াল ও সিনেমায় প্রবেশ করার ফলে আমার মনে হয় তার মন বিক্ষিপ্ত হয়েছে। কিন্তু তিনি স্বীকার করতেন না। তার মাঝের পর্বের অনেক লেখা তরুণ-তরুণীদের খুব আকর্ষণ করেছিল।
তিনি বলেন, তবে তিনি যখন লেখা শুরু করেছিলেন, তার প্রথমদিকের লেখা ‘নন্দিত নরকে’ ও ‘শঙ্খনীল কারাগার’ অসাধারণ। ‘মাতাল হাওয়া’, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’ এরকম কিছু গল্প আছে, খুব ভালো। তার দুচারটা ছোট গল্প তো খুবই মর্মস্পর্শী। কয়েকটি বড় গল্পেও তা আছে। সব মিলিয়ে তিনি আমাদের মূল সাহিত্যে মোটামুটিভাবে একটা ভালো জায়গা খুব ভালোভাবেই দখল করে আছেন। তাকে সস্তা, জনপ্রিয় লেখক হিসেবে আখ্যায়িত করা ঠিক হবে নাÑ আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক ।

এক প্রশ্নের জবাবে হাসান আজিজুল হক বলেন, হুমায়ূন আহমেদের জন্ম, তার সৃষ্টিকর্মে বাংলাদেশের প্রাপ্তির জায়গাটা কী বা কী পাওয়ার ছিল তার কাছ থেকেÑ এই প্রশ্নের জবাব দেওয়া খুব সহজ নয়। ভালো সাহিত্য অথচ খুবই জনপ্রিয়। আবার আরেকটি হচ্ছে জনপ্রিয় করার জন্য সাহিত্যের নামে যা খুশি তাই করা। এর মধ্যে হুমায়ূন প্রথম পর্যায়ে পড়েন। হুমায়ূন আহমেদ যেমন অসম্ভব জনপ্রিয় ছিলেন, ঠিক তেমনি করে তার সাহিত্যের বড় একটা অংশের সারবস্তুও ছিল।
সেখানে মানুষের চরিত্র বিশ্লেষণ, তাদের বোঝা এবং সেই চরিত্র কী রকম কাজ করতে পারে তা আন্দাজ করা তার কিছু উপন্যাসে এসব খুব সুন্দরভাবেই আছে। মানব চরিত্র সম্পর্কে হুমায়ূনের খুব ভালো জ্ঞান ছিল। সে কারণেই তিনি সাধারণ মানুষকে খুব সহজেই আঁকতে পারতেন। তাদের নিয়ে গল্পও তৈরি করতে পারতেন।
তিনি বলেন, দুটি বিষয় সম্পর্কে তার দুর্লভ ক্ষমতা ছিল। সাধারণ মানুষ সম্পর্কে জানা এবং তাদের জীবন অবিকল ফুটিয়ে তোলা। দ্বিতীয়ত হচ্ছে তার গল্পের সারবস্তু। মানুষকে জানা খুব সহজ ব্যাপার নয়। বড় বড় সাহিত্যিকেরা এটা করার চেষ্টা করেছেন। সেখানে একটা নির্দিষ্ট পরিসীমার মধ্যে হুমায়ূন আহমেদ খুব ভালো কাজ করেছেন বলেও বিশ্বাস করেন এই জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক।