আরবের লুভর মিউজিয়ামে উপচে পড়া ভীড়

মুফতি আবদুল্লাহ তামিম : দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শনিবার সকাল ১০টায় খুলে দিলো আবুধাবির লুভর মিউজিয়াম। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর উদ্বোধনের পর পরই মিউজিয়াম ঘিরে জনসাধারণের উপচে পড়া ভীড় চোখে পড়ে।

আবুধাবীর এই জাদুঘরটি ফ্রান্স এবং ইউএই’র একটি চুক্তির ফসল। ২০০৭ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে আমিরাতকে ৩৫ বছরের জন্য ‘লুভর’ নামটি ব্যবহারের অনুমতি দেয় ফ্রান্স। এই চুক্তির আওতায় ফ্রান্সের ১৩ টি জাদুঘর থেকে এক দশকের জন্য আবুধাবীর লুভরকে ৩০০টি শিল্পকর্ম ধার দেয়া হবে। এছাড়া ১৫ বছরের জন্য জাদুঘরটিতে চিত্রকলা প্রদর্শনীর সুযোগ রয়েছে।

ফরাসী স্থাপত্যশিল্পী জিন নোভেলের নকশাকৃত এই জাদুঘরে ২৩ টি গ্যালারি, ৫৫ টি ঘর ৬০০ টিরও বেশি শিল্পকর্ম রয়েছে। এতে রয়েছে শিশু কর্ণার এবং একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। জাদুঘরটিতে একটি আকর্ষণীয় গুম্বুজ ছাড়াও আছে ৭ হাজার ৮৫০ টি অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি ‘তারা’, যার ওজন ৭৭টনেরও বেশি।

জাদুঘরটির উদ্বোধনের পর কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘শিল্প, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের মিশেলে তৈরি জাদুঘরটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আরব বিশ্বে এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। আরবের ইতিহাস, ঐতিহ্যকে বিশ্বের কাছে উপস্থাপনের এ এক অনন্য মাধ্যম।’

গালফ নিউজের খবরে বলা হয়, প্যারিসের বিশ্ববিখ্যাত লুভর মিউজিয়ামের অনুকরণে আমিরাতের আবু ধাবিতে ঐতিহাসিক মানের এই মিউজিয়াম নির্মাণ করা হয়। প্যারিসের মিউজিয়ামের আদলে তার নাম ও লুভর মিউজিয়াম নাম রাখা হয়। গান ও নাচের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয় উপচে পড়া দর্শকদের। ইউএই’র বিশেষ ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে ‘আল আলায়া’ নামক নৃত্য প্রদর্শিত হয়।

দর্শকরা মনে করেন আরব বিশ্বের একমাত্র সার্বজনীন যাদুঘর হিসেবে এই যাদুঘর পরিচিতি পাবে। উপচে পড়া দর্শকদের সাক্ষাৎকারে ওঠে আসে তাদের উৎফুল্লতার কথা। তারা বলেন, এই মিউজিয়ামকে আমরা আরো সমৃদ্ধ দেখতে চাই। ২২ বছর বয়সী আমিরাতের বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া আমেনা আল হোসনী কে তার অনুভতি জানতে চাইলে গালফ নিউজকে বলেন,‘আমি আগে থেকেই আমার টিকেট বুক করে রেখেছি। অনেকদিন ধরে এই দিনের প্রতীক্ষায় ছিলাম । আমি যদিও কখনো প্যারিসে লুভর মিউজিয়াম পরিদর্শন করিনি, তবে লুভর আবুধাবি সত্যিই একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক মিউজিয়াম বলে মনে করি। সবারই এই মিউজিয়ামে ঘুরে যাওয়া উচিত।