বিপিসি’র লাভের টাকা নিয়ে টানাপোড়েন (ভিডিও)

উমর ফারুক : জ্বালানী তেল বিক্রির লাভের টাকা নিয়ে টানাপোড়েনে অর্থমন্ত্রণালয় ও জ্বালানী বিভাগ । পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বিপিসি’র কাছে এখনো ২৭ হাজার কোটি টাকা পাওনা দাবি করেছে অর্থমন্ত্রণালয়। যদিও জ্বালানী বিভাগ বলছে, এই টাকা কোন ভাবেই ঋণ নয় ভর্তুকি হিসাবে বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। তাই সেই অর্থ ফেরত দিতে রাজিও নয় তারা । বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের টানাপোড়ন খুবই দুঃখজনক।

এক লিটার তেল বিক্রি করে এখনো বিপিস’র লাভ ২০ টাকার কাছাকাছি । শতকরা হিসাবে যা প্রায় ৩৫ ভাগ । জানা গেছে, এরই মধ্যে কোন এক অর্থ বছরে ১২ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে সংস্থাটি । আর এই বিশাল লাভের অংকের দিকে নজর পড়েছে অর্থ বিভাগের। ২০১২ সাল পর্যন্ত বছরে কমপক্ষে ১০ হাজার কোটি টাকার এই খাতে ভর্তুকি দিয়েছে সরকার । বিপিসির সুদিনে ভর্তুকির সেই টাকাকে ঋণ দাবি করে এখন সুদে আসলে ২৭ হাজার কোটি টাকা ফেরত চায় অর্থমন্ত্রণালয়।

জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, এখনো আমাদের বিশাল অংকের টাকা সরকারের কাছে পড়ে আছে। আমরা বারবার বলছি এই টাকাটা ভর্তুকির টাকা। এই টাকা লোন হিসাবে কনসিডার করা যাবে না । এখন ফাইনাল ডিপার্টমেন্ট তো অনড় অবস্থায় রয়েছে ।

এক দফা কমানোর পরেও প্রতি লিটার অকটেনে ২৫ টাকা ও প্রতি লিটার পেট্রোলে ২০ টাকা লাভ করছে সরকার । সাধারণ মানুষের জ্বালানী ডিজেল ও কেরোসিনেও মুনাফাটা কম না, প্রতি লিটারে ১৭ টাকা ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাম না কমিয়ে এই যে মুনাফা সেটি অনৈতিক। আবার বিপিসি’র লাভের টাকা নিয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ের যে ভূমিকা সেটিও প্রশ্নবিদ্ধ ।

সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, অতীতে সব সরকার জ্বালানীতে এবং বিদ্যুতের ভর্তুকি দিয়ে তারা রাজনৈতিক ফায়দা নিয়েছেন। হঠাৎ করে ভর্তুকির টাকাকে তারা ঋণ হিসাবে দেখাচ্ছেন ।আজকে যে কৃষিতে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে সেখানেও সেই টাকাটাও ঋণ হিসাবে দিয়ে সেটা উঠিয়ে নেওয়া হোক।

বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা অফিসের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, সবাই জানে যে এটা সম্পূর্ণভাবে পরিশোধ হবে না । কাজেই ভর্তুকি না দিলে ঋণ করলে এটার হিসাব দেখানো যায় না ।

লাভের মুখ দেখার পর প্রথমেই দেনা শোধ করেছে বিপিসি, এমন দাবি জ্বালানী বিভাগের । বাড়তি টাকা দিয়ে বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু করেছে মন্ত্রণালয় ।

সহজ কথায়, বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমার কোন সুফলই প্রত্যক্ষভাবে পেলনা বাংলাদেশের জনগণ । এমনকি সরকারও শেষ পর্যন্ত কতটুকু অর্থনৈতিক সুবিধা নিতে পারল সেটি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে অনেকের কাছে । অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই সুযোগে যদি তেলের দাম নির্ধারণে একটি টেকশই পদ্ধতি চালু করত বাংলাদেশ, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে সেটি হয়তো একটি অর্জন হয়ে থাকতো । কিন্তু সে সবের কোন কিছুই হলো না এখন পর্যন্ত ।

সূত্র: যমুনা টিভি