ঢাবিতে সিজানের সন্ধানের দাবিতে মানববন্ধন

আনোয়ার হোসেন: নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মুবাশ্বার হাসান সিজারের সন্ধান দাবিতে ‘শিক্ষক, বন্ধু ও স্বজন’ এর ব্যানারে মানববন্ধন করেছেন তার স্বজন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

রোববার (১২ নভেম্বর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন বলেন, ‘আমাদের স্বাধীন দেশে (ড.আলী রিয়াজের ভাষ্য মতে) গত কয়েক মাসে লক্ষ করা যাচ্ছে যে, প্রতি ১০০ ঘণ্টায় একজন করে গুম ও নিখোঁজ হচ্ছেন। কিন্তু অনেকে এই গুমকে স্বাভাবিক ভাবে উপস্থাপন করছেন। সিজার একজন গবেষক। এটা দেশের জন্য খুবই হতাশাজনক। তাঁর গবেষণা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য। কিন্তু এমন ঘটনায় আমরা খুবই মর্মাহত। তাঁকে দ্রুত আমাদের সামনে দেখতে চাই।

মানববন্ধনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মফিজুর রহমান বলেন, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে গুম ভয়াবহ ব্যাপার। যে-ই গুম হোক না কেন, তাকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। তাই সিজারকে যেকোনো মূল্যে পরিবারের কাছে তুলে দেয়ার দাবি করছি।

অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, মানুষ রাষ্ট্র বানায় নিরাপত্তার জন্য। রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। আজ রাষ্ট্রের মালিক তার নাগরিকের সন্ধান চাচ্ছে। আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে তাকে খুঁজে বের করে দিতে হবে। শুধু সিজান নয়, গত দশ বছরে হাজার খানেক মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। তাই আমাদের প্রতিবাদ করতে হবে।

মানববন্ধনে গণমাধ্যমের উদ্দেশে সিজারের ছোট বোন তামান্না তাসমিন বলেন, আমার ভাইয়ের ব্যাপারে কোনো তথ্য লাগলে আমাদের সঙ্গে কথা বলুন। তার নামে কেউ মিথ্যা তথ্য ছড়াবেন না। যে কোন মূল্যে আমি আমার ভাইকে ফিরে পেতে চাই।

মানববন্ধনে আগামী ১৪ নভেম্বর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার মানববন্ধনের কথা জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, গত ৭ নভেম্বর মঙ্গলবার থেকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মুবাশ্বার হাসান সিজার নিখোঁজ রয়েছেন মর্মে তার খোঁজ চেয়ে খিলগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সিজারের বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোতাহার হোসেন। ওইদিন সকাল ৭টায় কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন তিনি। সেদিন সন্ধ্যা পৌনে সাতটা থেকে তার মুঠোফোনটি বন্ধ রয়েছে।