দিল্লিতে একদিন শ্বাস নেয়া ৪৪টি সিগারেট খাওয়ার সমান : বিশেষজ্ঞ মত

কামরুল আহসান : মঙ্গলবার সকালবেলা ঘর থেকে বেরিয়ে দিল্লিবাসীর চোখ ছানাবড়া। এখনো কি রাত ফুরোয়নি! ঘড়িতে তো সকাল সাতটা দেখাচ্ছে, কিন্তু, বাইরে যেন মধ্যরাত! আসলে ধুলোয় অন্ধকার হয়ে আছে পুরো শহর। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, দিল্লির বায়ুতে এখন প্রতি ঘন মিটারে ২.৫ শতাংশ মাইক্রোস্কোপিক কণা। বার্কলে আর্থ সায়েন্স গ্রুপ জানিয়েছে, দিল্লির বায়ুতে একদিন শ্বাস নিলে তার ক্ষতির পরিমাণ হবে ৪৪টা সিগারেট খাওয়ার সমান।

দিল্লির বায়ুদূষণের খবর নতুন নয়। অনেক দিন থেকেই এ নিয়ে সংবাদ প্রচার হচ্ছে, প্রতিবাদও হয়েছে কয়েকবার। কিন্তু, কিছুতেই কিছু হয়নি। দিল্লি সরকার শহর উন্নয়ন নিয়েই ব্যস্ত। অপরিকল্পিত নগর কাঠামো, অসংখ্য গাড়ি, রাস্তাঘাট ভাঙ্গা, নির্মাধীন কার্যক্রমের নিয়ম মেনে না চলাই এই ধুলি ধূসরতার কারণ। তা অনেক দিন থেকেই। তবে এবারের মাত্রা সব ছাড়িয়ে গেল।

দিল্লি এ্যাপোলো হাসপাতালের পালমোনোলজিস্ট দিপক রোশা জানিয়েছেন, দিল্লির এরকম খারাপ অবস্থা আর কোনোদিন দেখিনি। আমার মনে হয় দিল্লি শহর জন্ম হওয়ার পর সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে এখন। বিরক্ত লাগে এ শহরে বাস করতে। প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

আরো কজন ডাক্তার জানিয়েছেন, সারা শহর জুড়েই শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বুকে ব্যথা, চোখ জ্বালাপোড়া, মাথাব্যথা নিয়ে রোগীরা আসছে। যার কারণ একমাত্র দিল্লির বায়ুদূষণ। ২.৫ শতাংশ মাইক্রোস্কোপিক কণায় একদিন বাতাস নেয়া মানে ৪৪টা সিগারেট খাওয়ার সমান। আরো কী পরিমাণ ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে তা এখনো বলা যাচ্ছে না। শুধু বলা যাচ্ছে যে দিল্লির বায়ু দিল্লিবাসীর আয়ু কমাচ্ছে। সিএনএন