ব্রাহ্মনবাড়িয়ায় নৌকাডুবে ২ জেএসসি পরীক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মনবাড়িয়ার নবীনগরে জেএসসি পরীক্ষার্থীবাহী একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা ডুবে ২ জেএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।

এ ঘটনা তদন্ত ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে ঘটনার জন্য নিহতদের স্বজনরা বীর গাও স্কুল শিক্ষকদের অবহেলাকেই দায়ী করছে।এদিকে নিহতদের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা করে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার সকালে বীরগাঁও উচ্চবিদ্যালয়ের থেকে ১ শতাধিক পরীক্ষার্থী নিয়ে বীরগাঁও, গাছতলা, আমতলী থানাকান্দি থেকে নৌকাযোগে কৃষ্ণনগর রওনা হয়। তাদের পরীক্ষার আসন পড়েছিল কৃষ্ণনগর আবদুল জব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজে। থানাকান্দি থেকে কৃষ্ণনগরের দিকে যাওয়ার সময় পাগলা নদিতে একটি খুটির সঙ্গে ধাক্কায় নৌকাটি উল্টে যায়।

উদ্ধারকারী একজন প্রত্যক্ষ্যদর্শী বলেন, নৌকাটি নদীর মধ্যে অবস্থিত কুচুরী পনার জটলা (দাম) এর কাছে গিয়ে প্রথমে কাত হয়ে যায়। এসময় উপরে থাকা ছাত্ররা দ্রুত নামতে নৌকার মধ্যে দাঁড়িয়ে যায়। তখন নৌকাটি আকষ্কিক ভাবে ডুবে যায়। এসময় নৌকায় উপস্থিত শিক্ষার্থীদের আত্ম চিৎকারে তীরের লোকজন এসে উদ্ধার করে।

নৌকার ভেতর থেকে ১০ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। অন্যরা সাঁতরিয়ে তীরে উঠে। খবর পেয়ে ব্রাহ্মনবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থালে পৌছে। স্থানীয় ডুবুরী দল দীর্ঘক্ষন চেষ্টা করে নৌকাটি উদ্ধার করে। নিহত দুই পরীক্ষার্থী হলো নাদিরা আক্তার ও সোনিয়া আক্তার। নাদিরা আক্তার বীরগাঁও ইউনিয়নের বাইশমোজা গ্রামের সৈয়দ হোসেনের মেয়ে এবং সোনিয়া আক্তার একই ইউনিয়নের নজরদৌলত গ্রামের শিশু মিয়ার মেয়ে।

এ ঘটনায় ক্ষুব্দ স্বজনরা জানায়, স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রতিটি শিক্ষার্থী কাছ থেকে নদী পারাপারের জন্য ৩০০ টাকা করে নিয়েছে। যেখানে একটি নৌকা ৫০/৬০জন যাত্রী ধরার কথা তারা কি ভাবে ১০০ জনের অধিক শিক্ষার্থী উঠালেন। নৌকাটিতে তখন কোন শিক্ষক ছিল না বলে জানান তারা। এদিকে ঘটনার তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

স্থানীয় এক যুবক জানান, নদী পারাপারের জন্য জন প্রতি ২শ টাকা করে নেয়া হলে তাদের প্রয়োজনীয় নৌকার ব্যবস্থা করা হয়নি। এক সাথে গাদাগাদি করে অতিরিক্ত পরীক্ষার্থী নৌকাতে উঠানো হলে এ দূর্ঘটনা ঘটে বলে স্বজনরা দাবী করেছেন। তারা ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী করেছেন।

ঘটনার সাথে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবীতে বিক্ষোভ করেছে কৃষ্ণনগর স্কুল মাঠ প্রাঙ্গনে। নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সালেহহীন তানভীর গাজী বলেন পুরো ঘটনার খোজ খবর নিয়ে আমরা তদন্ত করব।

ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা প্রশাসক, রেজওয়ানুর রহমান বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছি। নিহত দু, জনের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহযোগিতার করা হবে।

বীর গাওঁ স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ নাজির হোসেন বলেন, গত কয়েক বছর ধরে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে নৌকা ভাড়া নেয়ার রেওয়াজ চলছিল। এ বারও তাই হয়েছে। তবে আমাদের কোন অবহেলা ছিল না।