সেই গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার এখন আইএস নেতা

রাশিদ রিয়াজ : ‘কাবুলের কসাই’ বলে খ্যাত গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার যিনি ১৯৯১ সালে গৃহযুদ্ধের সময় আফগানিস্তানে কট্টর সালাফি নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি এখন আইএস নেতা হিসেবে পশ্চিমা বিশ্বের প্রবল সমর্থন পাচ্ছেন। গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার আফগান সমাজে নিষ্ঠুর নিপীড়ন ও রক্তাক্ত উদাহরণ সৃষ্টির জন্যে কুখ্যাত হয়ে আছেন। এখন তার লক্ষ্য একটাই আর তা হচ্ছে আফগানিস্তানে আইএস’এর শীর্ষ নেতৃত্ব গ্রহণ করা। পশ্চিমা দেশগুলোতে যারা আইএস’এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে এমন গ্রুপগুলোর সমর্থন আদায়ে বেশ কিছুটা সফল হয়েছেন হেকমতিয়ার। আইইউভিএম প্রেস

আফগান জনগণের স্মৃতিশক্তিতে শতশত নৃশংস গণহত্যার জন্যে গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ারের সন্ত্রাস এখনো স্পষ্ট হয়ে আছে। হেকমতিয়ার সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ইসলামী আইনের অংশ হিসেবে চালিয়ে দিতেন যা নিয়ে প্রবল সন্দেহ ছিল। কিন্তু সেই গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার ফের আইএস’এর নেতৃত্বে কেন আসার চেষ্টা করছেন? বিশ্লেষকরা বলছেন, আফগানিস্তানের তালেবানদের বিরুদ্ধে আইএস জঙ্গিদের সক্রিয় হয়ে ওঠার পেছনে পশ্চিমা সমর্থন সবসময় ছিল। তারপরও কাবুলে আইএস জঙ্গিদের ফের জয়ী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা খুবই কম। আফগানিস্তানে তালেবানরাও অনেকটা কোনঠাসা। আফগানিস্তানের বেশিরভাগ অংশে পশ্চিমা নিয়ন্ত্রণ এখন বেশ জোরদার। তারপরও তালেবান কিংবা আইএস জঙ্গিরা ফের নতুন করে এক জঙ্গি নেতার সন্ধান করছেন যেখাে গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ারের সন্ত্রাসী অভিজ্ঞতা বেশ কার্যকর বলেই জঙ্গিরা মনে করছে।

প্রায় দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো আফগানিস্তানে তালেবানদের নির্মূল করতে ব্যর্থ হয়েছে। বস্তুত তালেবান সমর্থিত আল-কায়েদা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র ও পেন্টাগনে হামলার সূত্র ধরে আফগানিস্তানে যে সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান চলছে তা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। বরং আইএস জঙ্গিরা আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রম করে ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া সহ অনেক দেশেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে যা দমনে যুক্তরাষ্ট্র সহ পশ্চিমা দেশগুলোকে সিরিয়াস হতে দেখা যায়নি। অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েল, সৌদি আরব সহ এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মদদে এধরনের সন্ত্রাসী চক্র একের পর এক মুসলিম দেশগুলোতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে এবং তাদের নিয়ে সাজানো যুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলো রত রয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে কাবুলের নিয়ন্ত্রণ মার্কিনীদের হাত থেকে ছুটে যেতে পারে যদি সেখানে তালেবান, আল-কায়েদা বা আইএস জঙ্গিদের সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করা যায়। এধরনের শঙ্কাই আফগানিস্তানে ফের ‘প্রক্সি ওয়ার’ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সাজানো যুদ্ধের পটভূমির আশঙ্কা তৈরি করেছে এবং গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার সেখানে রাখতে পারেন মুখ্য ভূমিকা।