গাজীপুরে জুয়া আসরে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিলন, গাজীপুর : গাজীপুরে জুয়ার আসরে দু’পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় সাভারের এক ব্যবসায়ী নিহত এবং আহত হয়েছে অন্ততঃ পাঁচ জন। নিহতের নাম আজিজুর রহমান (৫০)।
সে ঢাকা জেলার সাভারের উত্তর রাজাসাম এলাকার মৃত মাইন উদ্দিনের ছেলে। তিনি এলাকায় ওয়েল্ডিংয়ের ববসা করতেন।

এলাকাবাসী জানায়, উচ্চ আদালতের অনুমতির প্রচার দিয়ে গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকায় স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি গত কয়েকদিন ধরে জুয়া খেলার আসর পরিচালনা করে আসছিল। টিন দিয়ে অস্থায়ীভাবে বেড়া নির্মাণ করে এবং সামিয়ানা টানিয়ে ওই আসরে একাধিক জুয়ার বোর্ড পরিচালিত হত।

জেলা প্রশাসন ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে উচ্ছেদ করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিলেও তা আবার শুরু হয়। সর্বশেষ উচ্ছেদের প্রেক্ষিতে কিছু দিন বন্ধ থাকার পর কয়েকদিন পূর্বে পুনরায় জুয়ার আসর চালু হয়।

সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে একটি জুয়ার বোর্ডে জমা দেয়া টাকা নিয়ে জুয়াড়ী ও বোর্ড পরিচালনাকারীদের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে জুয়ার সকল বোর্ডে তা ছড়িয়ে পড়ে এবং দু’পক্ষের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এসময় লাঠি ও ইটপাটকেল দিয়ে কতিপয় ব্যক্তি টিনের বেড়ায় এলোপাতাড়িভাবে আঘাত করে বিকট শব্দ করতে থাকে।

এতে বিভিন্ন এলাকা হতে আগত জুয়াড়ীরা আতংকিত হয়ে দিগি¦দিক ছুটোছুটি শুরু করে। এসময় দৌড়ে পালানোর কালে কয়েক ব্যাক্তি পাশর্^বর্তী হাজেরার বাড়ির ময়লা পানি ও আবর্জনার গর্তে পড়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা ওই গর্ত থেকে গুরুতর অবস্থায় ছয়জনকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ক্লিনিকে প্রেরণ করে। এদের মধ্যে আজিজুর রহমানকে শহীদ তাজ উদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার ভোরে নিহতের স্বজনরা হাসপাতালে এসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন অনুমতি না নিয়ে ময়না তদন্ত ছাড়া হাসপাতাল থেকে গোপনে লাশ বাড়ি নিয়ে যায়। হাসপাতালের মর্গ থেকে লাশ গায়েবের খবরটি দুপুরের দিকে প্রকাশ হলে কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জয়দেবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছে। বিষয়টি দিনভর ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে প্রভাবশালী মহল।

এ ব্যাপারে সাভার পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সেলিম মিয়া ও নিহতের ভাই মুজিবুর রহমান বলেন, ওই ব্যক্তি পানিতে ডুবে মারা গেছে। জুয়া খেলার সময় সংঘর্ষে মারা গেছে এমন কথা প্রকাশ হলে মান স¤œান ক্ষুন্ন হবে জেনে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ কবর দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক প্রনয় ভ’ষণ দাস জানান, মঙ্গলবার ভোর রাত ৩টা ৪০মিনিটের দিকে ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে বলে আনয়নকারীরা জানিয়েছে।

লাশের খবরটি পুলিশকে জানিয়ে রাতেই একটি চিঠি ইস্যু করা হয়। কিন্তু হাসপাতালের ডোম মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে নিহতের স্বজনরা কৌশলে ওই চিঠি নিয়ে যায়। পরে কোন অনুমতি ছাড়াই প্রতারণার মাধ্যমে লাশটি তার স্বজনরা ভোরে হাসপাতাল এলাকা থেকে নিয়ে যায়। দুপুরে বিষয়টি জানার পর এঘটনায় জয়দেবপুর থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জয়দেবপুর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, ঘটনা শুনেছি। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তেমন কিছুই পায় নি।
গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট রাহেনুল ইসলাম বলেন, আদালতের অনুমতির প্রচার দিয়ে গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকায় উন্মুক্ত স্থানে কয়েক ব্যক্তি জুয়া খেলার আসর পরিচালনা করে আসছে। আদালতের অনুমতির বিষয়টির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। বিষয়টি মিথ্যা প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ এলাকায় আগেও জুয়ার নামে অশ্লীল নৃত্য, জুয়া ও হাউজির অবৈধ আসর বসানো হয়েছিল। এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ইতোপূর্বে ভ্রাম্যমান আদালত একাধিকবার অভিযান চালিয়ে এসব উচ্ছেদ এবং অগ্নিসংযোগে পুড়িয়ে দেয়া হয়।