ব্যবসার স্বপ্নে বিভোর সৌদি নারীরা

কামরুল আহসান : গত ৪ বছরে সৌদী নারীদের ব্যক্তিগত খাতে ব্যবসার উদ্যোগ বেড়েছে ১৩০ শতাংশ। ১৩.১ মিলিয়ন সৌদীর নারীর মদ্যে ১.৯ মিলিয়ন নারীই এখন নানারকম চাকরি বাকরির সঙ্গে যুক্ত। আর এর বিশাল সংখ্যকই নিজস্ব ব্যবসা দাঁড় করাতে উদগ্রীব। বিস্ময়কর এই রূপান্তর সম্ভব হচ্ছে সৌদীর নতুন অর্থনৈতিক যুগ শুরু হওয়ায়।

কট্টরপন্থী ইসলাম থেকে সৌদী এখন মধ্যপন্থী, উদারপন্থী ইসলামে ফিরে আসতে চাচ্ছে। তার ফলে নারীদের দেয়া হচ্ছে বিশাল শিক্ষাগত ও সামাজিক সুযোগ-সুবিধা। স্বাধীনতা পেয়েও নারীরাও ঝাঁপিয়ে পড়ছে নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে। বেশির ভাগ নারীই বেছে নিচ্ছেন স্বউদ্যেগে কিছু করার। তারা ক্ষুদ্র ও মাঝারি মাপের ব্যবসাখাত খুঁজে নিচ্ছে। না পারলে যোগ দিচ্ছেন সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে।

২০১৬ সালে ৪০ শতাংশ নারী সৌদীর নানা কাজ জয় করে নিয়েছে। ২০৩০ সালের তাদের উন্নয়নের মহাসোপানের পরিকল্পনায় তারা পুরুষদের সমানতালেই এগিয়ে যেতে চায়। আশ্চর্য্য ব্যাপার হচ্ছে, সৌদীতে পুরুষের চেয়ে নারী শিক্ষার হার বর্তমানে বেশি। এসব শিক্ষিত নারীরা আর বেকার বসে থাকতে রাজি নয়।

দুবাই নির্ভর কনসাল্টিং কোম্পনির প্রতিষ্ঠাতা ডেভিট হন্ট বলছেন, সৌদী নারীরা শিক্ষায় ও মেধায় সৌদীর শ্রমবাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চাচ্ছে। শিক্ষা তাদের সমাজে স্বঅধিকারে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকা বিষয়ক নারী অধিকারকর্মী জেন কিনিনমন্ট বলছেন, সৌদী আরব এখন নারী শিক্ষার জন্য পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করছে। এই বিনিয়োগ তাদের কয়েক গুণ বেশি করেই ফিরবে। নারীদের স্বাবলম্বী করা যে শুধু নারী অধিকার বা নারী স্বাধীনতাকেই প্রতিষ্ঠিত করবে তা না, তা সমাজের লিঙ্গ বৈষম্যও দূর করবে।

ওয়াফা আল-আশওয়ালি এ বছরের শুরুর দিকেই তার ব্যবসার কাজ শুরু করেন। এরমধ্যেই তা সুপ্রতিষ্ঠিত। তার এ্যাপ কোম্পানিতে নারীকর্মীর সংখ্যাই বেশি। তিনি বলছেন, পুরুষদের নারীরা অনেক বেশি কর্মঠ। অনেক নারী এখন স্বউদ্যোগে কিংবা নারী পরিচালিত কোম্পানিতে কাজ করছেন। আশা করি আমরা শীঘ্রই সম-অধিকার ভিত্তিক একটি সমাজ পাবো। আল-আরাবিয়া