নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুকে জবাবদিহি করতে হবে

মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা) : বাংলায় একটা কথা আছে, পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়। পাগলের কথার কোনো জবাব দেওয়ার দরকার আছে, আমার তো মনে হয় না। তারপরেও যদি একটা একটা করে এ্যানালাইসিস করতে যাই, তাহলে প্রথমেই জিজ্ঞাস্য হল, মানুষের মধ্যে স্বাভাবিক ভদ্রতা, নম্রতা, শিষ্টাচার এটা ছাড়া যদি হয়, তাহলে সে লোকটাকে আমরা মানুষই বলতে পারি না। আমরা সাধারনত তাকে অমানুষ বলি। সেখানে আপনার মা এবং আপনার বাবা যারা আপনাকে বড় করেছেন, ছোট বেলায় যেসব শিক্ষা গুলো দেওয়া দরকার, সেসব শিক্ষা গুলো দিয়েছেন, তার মধ্যে এটা বোধ হয় ছিল যে, বড় যারা তাদেরকে তুমি সম্মান করবে। তাদেরকে শ্রদ্ধা করবে। সম্মানের সাথে সম্বোধন করবে। আপনার চাচা-চাচী, দাদা-দাদী সম্বোধন করার সময় অশোভনীয় বাক্য ব্যবহার করে নিশ্চয়ই কথা বলতেন না। যদি বলতেন তাহলে আমি বলবো আপনি একটা অশিক্ষিত, অমার্জিত, খারাপ ফ্যামিলি থেকে আসা একটা লোক। বাচ্চু নামক ব্যক্তি নিজেকেই শুধু সে অমার্জিত, অশিক্ষিত প্রমাণিত করে নি, সে এটার মাধ্যমে তার বাবা-মাকেও হেয় প্রতিপন্ন করেছে। কারণ, সে তার পিতৃ সম একজন ব্যক্তিকে ‘তুই তোকারি’ বলে সম্বোধন করেছে। এই শব্দটি ব্যবহারেই তার সম্বন্ধে কথা বলার স্পৃহা আমার অন্তত: থাকে না। কারণ, আমি আর যাই কিছু করি, আমার চেয়ে বয়স্ক একজন মানুষ খারাপ যদি হয়, তারপরেও তিনি যদি একজন বড় সেলিব্রেটি হন, যে লাইনে আপনি কাজ করছেন সে লাইনেরই একজন হন, সেলিব্রেটি হন, তার সম্পর্কে আপনি তুই তোকারি করেন যে ‘তুই মানুষ হ’, তাহলে আমি বলবো যে, আপনি তো মানুষ হনই নি, আপনি একটা অমানুষ হয়েছেন। স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময়ে আপনার বয়স কত ছিল? আমি মাসুদ পারভেজ। ’৭১ এর স্বাধীনতার পরে ’৭২ এ তৎকালিন ইকবাল হল এখন যেটা জহুরুল হক হল নামে পরিচিত, আমি সেখানে ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলাম। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, জনাব বাচ্চু আপনার বয়স কত ছিল তখন? আপনি এখন ৬০ ম্যাক্সিমাম। দেশ স্বাধীন হয়েছে ৪৬ বছর, আপনার বয়স ছিল ১৩-১৪। ১৮ ই ধরলাম। যেহেতু নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, আমরা যতদূর জানি। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার প্রতি আমার ভালোবাসা সম্মান সব কিছুই আছে। তারপরেও আমি কিছু প্রশ্ন করে যাচ্ছি। আমি আপনাকে হেয় প্রতিপন্ন করে কথা বলবো না। আমি যেটা বলবো, সেটা প্রমাণ দিয়ে বলবো। আপনার বয়স যদি তখন ১৮-১৯ বছর হয়ে থাকে, তাহলে আপনি কি জানেন স্বাধীনতার এক বছর আগে একটা ছবি তৈরি হয়েছিল, যার নাম ছিল ‘জীবন থেকে নেয়া’? যখন জীবন থেকে নেয়া তৈরি হয়, তখন বাংলাদেশে টেলিভিশন বা টেলিফোনের জমানা ছিল না। তখন মানুষের মধ্যে স্বাধীনতার চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ক্ষমতার জন্যে মানুষকে অপমান করার চেতনা সিম্বলিক ভাবে জহির রায়হান দেখিয়েছিলেন ছবিটিতে। অভিনয় থেকে শুরু করে গান, সবকিছুতে কে ছিলেন ? খান আতাউর রহমান। জহির রায়হান তো আর্মস নিয়ে যুদ্ধ করেন নি। সমস্ত পৃথিবী আলোড়িত সেই ছবিটি। জহির রায়হানকে কি আপনি রাজাকার বলবেন? না মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ সারির একজন সৈনিক বলবেন? তাহলে একবছর আগে পাকিস্তানি সেনা বাহিনী যে ছবিটি ব্যান্ড করে দিল। এবং সে ছবিটিকে বহু কষ্ট করে সেন্সর করা হল। জহির রায়হান কি তাহলে খান আতার মত একজন রাজাকারের সাথে কাজ করেছেন? জহির রায়হানের অনেক ছবিরই নায়ক, মিউজিক ডিরেক্টর ছিলেন খান আতা। ইতিহাসটা একটু ঘাটেন। আপনার সাহস থাকলে বলেন, জহির রায়হানও একজন রাজাকার ছিলেন। কারণ, একজন রাজাকারকে নিয়ে সমস্ত সৃষ্টিশীল কার্যকলাপ করেছেন। সেটা বলার মত সাহস তো আপনার নাই।
পরিচিতি: চলচ্চিত্র অভিনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা
মতামত গ্রহণ : সানিম আহমেদ
সম্পাদনা: মোহাম্মদ আবদুল অদুদ