বঙ্গবন্ধু মানেই বাঙালি জাতির স্বপ্ন দেখার বাতি

সারোয়ার হোসাইন : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু মানেই স্বপ্ন দেখা, বঙ্গবন্ধু মানেই মায়ের কোলে নিষ্পাপ শিশুর স্বতঃস্ফূর্ত হাসি, বঙ্গবন্ধু মানেই বাঙালি জাতির স্বপ্ন দেখার বাতি। ‘বঙ্গবন্ধু’ শুধু একজন ব্যক্তির নাম নয়, বঙ্গবন্ধু সবার। মূলত, বাংলাদেশ একটি গণপ্রজাতন্ত্রী দেশ। এ দেশে যারাই ক্ষমতায় আসুক না কেন? বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব, বিচক্ষণতা, কৃতিত্ব অস্বীকার করতে পারবে না। এরপরেও কিছু মানুষ বঙ্গবন্ধুর কৃতিত্ব জানার পরেও অস্বীকার করেন। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি থেকে শুরু সবারই উচিত বঙ্গবন্ধু ছবি ও তার আদর্শ সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়া। কারণ বঙ্গবন্ধু কোনো ব্যক্তি, পরিবার কিংবা দলের সম্পদ নন। তিনি গোটা জাতির অহংকার। অথচ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত একটা গোষ্ঠী মনে করেন বঙ্গবন্ধু শুধু আওয়ামী লীগের। বঙ্গবন্ধু জাতির পথ প্রদর্শক, যার জন্ম না হলে মাতৃভূমি সৃষ্টি হত না, বঙ্গবন্ধু মানে কাব্য, বঙ্গবন্ধু মানে একটি স্বপ্ন,বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলা মায়ের মুখের ভাষা। বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে চিরকাল অমৃত থাকুক।

বাংলার ইতিহাস হচ্ছে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একসঙ্গে জীবন-যাপন করা। সে কারণে দেখা যায় দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশ বিভাগ হলেও সব হিন্দু যেমন ভারতে চলে যায়নি, আবার সব মুসলমানও তেমনি পাকিস্তানে চলে আসেনি।এসব দৃষ্টিকোণের মাঝে বঙ্গবন্ধু নিজেও কোনোদিন একমাত্র আওয়ামী লীগের নেতা হিসাবেই আবদ্ধ থাকেননি বা রাখতে চাননি। তিনি চেয়েছিলেন সারা বাংলার নেতা হতে এবং হয়েও ছিলেন নিজের যোগ্যতায়।

১৯৪৭ সাল থেকে ৭১ সাল, এই দীর্ঘ ২৩ বছর সময়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধু ১৩ বছর কারাগারে অন্তরীণ ছিলেন। ফলে মাত্র ১০ বছরের মধ্যে তিনি পুরো জাতিকে সংঘবদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন এবং দেশবাসী তার ডাকে সাড়া দিয়ে আমাদেরকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ উপহার দিয়েছিলেন।

১৯৪৭-এ ভারত বিভাগ পরবর্তী পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতির প্রাথমিক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু ছিলেন ছাত্রনেতা। ১৯৪৮ সালে ছাত্রলী গঠন করেন।এরপর ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন তৎকালীন ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ সরকারের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল আওয়ামী মুসলীম লীগ থেকে মুসলীম শব্দটি বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ নামকরণ করা হয়।

জনগণের স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু ছয় দফা স্বায়ত্ত্বশাসন পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন। যা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুর বিচার শুরু হলে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন। ১৯৭০ সালে নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ বিপুল বিজয় অর্জন করে। তথাপি বঙ্গবন্ধুকে সরকার গঠনের সুযোগ দেয়া হয়নি।

সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে ভিত্তি করে সংবিধান প্রণয়ন এবং সে অনুযায়ী রাষ্ট্র চালনার চেষ্টা সত্ত্বেও তীব্র দারিদ্র্য, বেকারত্ব, সর্বব্যাপী অরাজকতা এবং সেই সাথে ব্যাপক দুর্নীতি মোকাবেলায় বঙ্গবন্ধু কঠিন সময় অতিবাহিত করেন। বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু যখন নীবিরভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার কাজে মনোনিবেশ করেন ঠিক তখনই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তারিখে একদল বিপথগামী সামরিক কর্মকর্তার হাতে তিনি সপরিবারে নিহত হন।

লেখক : পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ফজলুল হক মুসলিম হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।