বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগে আগ্রহী জাপানীরা: রাষ্ট্রপতির কাছে নতুন রাষ্ট্রদূত ইজুমি

আনোয়ারুল করিম: বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের নতুন রাষ্ট্রদূত হিরোইয়াসু ইজুমি মঙ্গলবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের কাছে পরিচয়পত্র (ক্রেডেনশিয়াল) পেশ করেছেন।

এ সময় রাষ্ট্রদূত রাষ্ট্রপতিকে বলেছেন, তিনি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে কাজ করে যাবেন। রাষ্ট্রদূত এ সময় রাষ্ট্রপতিকে আরও জানান, জাপানের অনেক বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশ-জাপানের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে তিনি সর্বাত্মক প্রয়াস চালাবেন। এছাড়া দুই দেশের জনগণের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিতেও কাজ করবেন। রাষ্ট্রদূত এসময় রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

রাষ্ট্রদূত ইরোয়াসু ইজুমি ১৯৮১ সালে জাপানের পররাষ্ট্র সার্ভিসে যোগদান করেন। তিনি জাপানের ফরেস সার্ভিস ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে জাপান দূতাবাসে পূর্ণদায়িত্বপ্রাপ্ত মিনিস্টার ছিলেন।

বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র পেশ উপলক্ষে মঙ্গলবার জাপান দূতাবাসের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাষ্ট্রদূত তার বাণীতে বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া খুবই গর্বের ব্যাপার। স্বাধীনতার পর পরই বাংলাদেশকে স্বীকৃত দেওয়া জাপান এ বছর কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪৫ বছর উদযাপন করছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, পাবলিক ও প্রাইভেট সেক্টরে জাপান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফর বিনিময়ের মাধ্যমে এই সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হয়েছে; যা আগামী দিনগুলোতে আরও দৃঢ় হবে। রাষ্ট্রদূত বলেন, বিশ্বের মানচিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, বাংলাদেশ এশিয়ার অন্যতম কেন্দ্রস্থলের একটি দেশ, যা একদিকে চীন, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া ও ভারতের ত্রিভূজাকৃতির মধ্যে রয়েছে।

সীমান্তে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ সাহসী ভূমিকা রেখেছে। রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন এবং জাপান সবসময় এতে বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

গুলশানের হোলি আর্টিসানসহ বাংলাদেশে দুষ্কৃতীর হামলায় ৮ জন জাপানি নাগরিকের প্রাণহানীর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের পাশে থাকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ জাপানের রাষ্ট্রদূতকে বলেন, জাপান বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম অংশীদার। বাংলাদেশের বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে জাপানের বিনিয়োগকারীরা আরো বেশি বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব এই সাক্ষাৎ সম্পর্কে বলেন, “সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি বলেন, জাপান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের আর্থ সামজিক উন্নয়নে জাপান অব্যাহত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া জাইকা বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতিবাচক অবদান রাখছে।”

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগে জাপান অন্যতম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশে বিরাজমান বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে জাপানের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আরো বেশি বিনিয়োগ করবে। আবদুল হামিদ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জাপানকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূত বলেন, জাপানের অনেক বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী।
(আনোয়ারুল করিম রাজু: দৈনিক আমাদের অর্থনীতি’র বিশেষ প্রতিনিধি ও আমাদের সময় ডট কমের ইন-চার্জ)