উত্তপ্ত আগুনে সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যায় নির্বাক রোহিঙ্গা মা

জাকারিয়া হারুন : পৃথিবীর ভাগ্যহত জনগোষ্ঠী মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা। তারা হারিয়েছেন বাবা-মা, ভাই-বোন, নিকটতম আত্মীয়-স্বজন। রোহিঙ্গারা সর্বশান্ত। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৩৮ হাজার রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে একজন রাজুমা। কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরের এক ঝুপড়ি ঘরের ধুলা-মাখা মাটিতে বসে তিনি স্বজন হারানোর ভয়াবহ বর্ণনা দিয়েছেন আল-জাজিরার প্রতিবেদকের কাছে।

তিনি বলেন, যখন মিয়ানমারর হিংস্র সেনারা আমাকে মারতে শরু করে তখন দেড় বছর বয়সী সন্তান সাদিক আমার কোলে। সেনাদের মারের চোটে সাদিক আমার কোল থেকে পড়ে যায়। তারপর তারা আমাকে টেনেহিঁচড়ে দেয়ালের কাছে নিয়ে যায়। তখন আমি শুনতে পাই আমার সন্তান কাঁদছে। এর কয়েক মিনিট পর শুনতে পাই, তারা আমার সন্তানকে বেধড়ক পেটাচ্ছে। আমার নাড়িছেড়া ধন সাদিককে আবারও জাপ্টে ধরি। তারা আমার কোল থেকে কেড়ে নিয়ে আমার সন্তানকে আগুনে ছুড়ে মারে। একথা বলতেই রাজুমা কান্নায় ভেঙ্গে পরে। কুলজেছেড়াধন সাদিক আর নেই, এটা বিশ্বাসই করতে পারছেন না রাজুমা। সন্তানহারা এই মা বলেন, তখন আমার মনে হচ্ছিল, আমিই ওই আগুনে পুড়ছিলাম।

দু:খজনক হলো ওই দিন রাজুমা তার মা, দুই বোন ও এক ভাইকে হত্যা করে মিয়ানমারের উগ্র সেনারা। এখন তার পরিবারে শুধু স্বামী মোহাম্মদ রফিক ছাড়া আর কেউ বেঁচে নেই। এরপর থেকেই রাজুমা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু মানসিক চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা পর্যাপ্ত না থাকায় তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান স্বামী রফিক।
তার স্বামী বলেন, মাঝেমাঝে রাজুমা বলে, তার মাথা ঘুরছে। এটা মাথার যন্ত্রণায় সে অসহ্য হয়ে যায়। রাতে মাঝেমাঝে সে আমাদের সন্তানকে দেখতে পায়। তখন রাজুমা চিৎকার করে কেঁদে ওঠে। এখন সে প্রতিদিন শুধু ছেলের লোমহর্ষক মৃত্যুর জন্য কাঁদে। সূত্র : আল জাজিরা