রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় আরও ২০ লাখ পাউন্ড দেবে যুক্তরাজ্য

বাঁধন : বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে আরও ২০ লাখ পাউন্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল এ ঘোষণা দেন। এসময় রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

মিয়ানমারে সহিংসতা থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসা লোকদের জন্য অনুদানের আবেদন জানিয়েছিল যুক্তরাজ্যের ডিজাস্টার ইমারজেন্সি কমিটি (ডিইসি)। বিভিন্ন  দুর্যোগে শীর্ষস্থানীয় দাতব্যসংস্থাগুলো এই কমিটির আওতায় কাজ করে। মন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল জানান, ওই আবেদনের অংশ হিসেবে সংগৃহীত অর্থের সঙ্গে তার মন্ত্রণালয় (ডিএফআইডি) ২০ লাখ পাউন্ড যোগ করবে। এর আগে একই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্য আরও ৩০ লাখ পাউন্ড দিয়েছিল। সবমিলিয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গার জন্য যুক্তরাজ্য ৯০ লাখ পাউন্ড অর্থ সংগ্রহ করেছে। ডিইসির হেডঅফিসে বিভিন্ন দাতাসংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রীতি প্যাটেল এসব তথ্য জানান। এতে ক্রিশ্চিয়ান এইড, অ্যাকশন এইড, রেড ক্রস, অক্সফাম ও সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রীতি প্যাটেল বলেন, বাংলাদেশ সরকার যেভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, স্থানীয়  দাতব্য সংস্থা ও এনজিওর সঙ্গে কাজ করছে আমি তার প্রশংসা করি। তিনি আরও বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি আমাদের বার্তা খুবই পরিষ্কার। দমনপীড়ন চলছে বলেই লোকজন জীবন বাঁচাতে পালিয়ে আসছে। সেখানে জাতিগত নির্মূল অভিযান চলছে বলে আমরা দেখতে পাচ্ছি।

রাখাইনে চলমান সহিংসতা ও নিপীড়ন বন্ধ করে যারা দেশত্যাগ করেছে তাদের প্রত্যাবর্তনের পথ সুগম করা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন  প্রীতি প্যাটেল। তিনি বলেন, আসিয়ান ও  অন্যান্য দেশ এই ইস্যু (রোহিঙ্গা সংকট) সম্পর্কে সচেতন আছে। তাদের উচিত বাংলাদেশকে শক্তি জোগানো এবং মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। বর্তমানে যে সংকট আমরা মোকাবিলা করছি তা কাটানোর দিকেই আমাদের মনোযোগ নিবদ্ধ রয়েছে। এজন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তা দরকার।

এসময় দাতব্য সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা কক্সবাজারে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি ও সংষ্থাগুলোর কাজের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন।  সূত্র : বাংলাট্রিবিউন