‘গণতন্ত্রকে উন্নত করতে হলে জামায়াতকে একমাত্র প্রতিপক্ষ ভাবা যাবে না’

কে এম হোসাইন : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, বিজ্ঞানসম্মত ধারণা মাধ্যমে গণতন্ত্রকে পূণর্গঠিত করে কিভাবে উন্নত করা যায় তা ভাবতে হবে।

সময় টেলিভিশনের নিয়মিত অনুষ্ঠান সম্পাদকীয়তে ‘আবারো তৎপর জামায়াত’ বিষয়ক আলোচনায় তিনি একথা বলেন। এছাড়া ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক আবু সাঈদ খান।

সাবেক অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী কোনো দল রাজনীতি করতে পারবে এটা যদি দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে ঘোষণা করা হত। তাহলে জামায়াত আর স্বাধীন দেশে রাজনীতি করতে পারত না। পরবর্তীকালে জিয়াউর রহমান এসে জামায়াতকে পুনরায় রাজনীতিতে আনতে পারত না। ধর্মীয় দল আসত অন্য নামে। ধর্ম একটা স্পর্শকাতর বিষয়। কোন সরকারই রাষ্ট্র ধর্মকে আঘাত করে কাজ করে না। তবে মাঝে মাঝে আমরা ধর্ম নিয়ে কিছু বলতে গিয়ে ধর্মবোধ দিয়ে মানুষকে আঘাত করেছি। যেখানে আমাদের সতর্ক থাকার দরকার ছিল। বাংলাদেশ যে নেতার নেতৃত্বে স্বাধীন হল, তারা এমনভাবে ক্ষমতাচ্যুত হলো। এটা আমরা কেউ অনুভব করিনি। কিন্তু জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পরে যখন তিনি পাকিস্তানের সময় যেসব বিতর্কিত বিষয়ের জন্য বাঙালিরা আন্দোলন করেছিল। সেসকল বিষয় সামনে নিয়ে আসে তিনি। তখন বিভিন্ন রাজনীতি দলগুলো মধ্যে অনুভব হয় যে একটা কাউন্টার রেভ্যুলেশন ঘটে গেছে।

যারা গণতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী রাজনৈতিক দলগুলোকে যেভাবে এগিয়ে ‍নিয়েছেন তার দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছে জামায়াত। বর্তমানে আমার মতে জামায়াত একটু দুর্বল অবস্থানে আছে। তাই আমাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত। আমাদের দেশে কিভাবে জাতীয় স্বার্থে কিভাবে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা যায়। গণতন্ত্র মানে খালি নির্বাচন নয়। সময় এসেছে গণতন্ত্রের ধারণাকে নতুন করে সাজানোর। বিশ্ব ব্যাংক, সমাজতন্ত্রের সংজ্ঞায় তা হবে না। আমাদের রাজনীতির মধ্যে বিজ্ঞানসম্মত ধারণা প্রতিষ্ঠিত করা। এজন্য আমাদের কেন্দ্রীয়ভাবে এর গুরুত্ব দেওয়া দরকার। গণতন্ত্রকে আমর কিভাবে পুনর্গঠিত করে উন্নত করব তা ভাবতে হবে। আর তা করতে গিয়ে শুধু জামায়াতকে যদি একা প্রতিপক্ষ ভাবি তাহলে উন্নতি করা যাবে না।