‘আগামী নির্বাচনে’ কোন কারচুপি হবে না: রমেশ চন্দ্র সেন

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন। আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে পেয়েছেন দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমন্ডলীর সদস্য পদ। এ ছাড়া গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে। ঠাকুরগাঁও ও জাতীয় রাজনীতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। কথা বলেছেন বর্তমান সরকারের আমলে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন নিয়েও। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- আল হেলাল শুভ ও ফেরদৌস রায়হান।

#আপনার রাজনৈতিক জীবন নিয়ে কিছু বলেন?
ছাত্র জীবনে ১৯৫৪ সালে ছাত্রলীগ করতে গিয়ে আমি গ্রেফতার হয়েছিলাম। ষাটের দশকে আমি শিক্ষকতা শুরু করেছি। পরে আমি ব্যবসায়ে জড়িত হতে হয়। স্বাধীনতার পূর্বেই শিক্ষক ছেড়ে দেই। তার পরে শুরু হয় রাজনীতি। এর পর থেকেই চলছে আর চলছে। এখন জীবনের শেষ সীমানায় এসে পৌছেছি। এই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মানুষকে ভালবাসা ও উপকার চেষ্টা করেছি। এলাকার উন্নয়ন করার চেষ্টা করেছি।

#আপনি এখন আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমন্ডলীর সদস্য। রংপুর বিভাগ থেকে আপনিই একমাত্র এই পদে আছেন। দলের জন্য কিভাবে কাজ করছেন?
সভাপতিমন্ডলীর সদস্য হওয়ার পরে আমার দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। ওই অঞ্চলের দলের মধ্যে কোন সংকট দেখা দিলে তা ত্বরীত গতিতে নিরসন করতে হয়। তাছাড়া সংগঠন গোছাতে হয়। মূল দল ছাড়া প্রত্যেকটি সহযোগী সংগঠন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। মূলত উত্তরবঙ্গ নি:গৃহীত এলাকা। ওই এলাকায় দলের জন্য আমি কাজ করে যাচ্ছি।

# আগামী নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সেখানে (ঠাকুরগাঁও) কিভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে?
আমরা প্রত্যেকটি এলাকায় আমাদের দল অনেক শক্তিশালী। আমরা দলীয়ভাবেও অনেক কাজ করেছি। কোথাও পরাজয়ের জন্য করি নি। ঠাকুরগাঁও সদরেও আওয়ামী লীগের এটাই চিত্র। সেখানে কোন কোন্দল নেই। আমি অনেক উন্নয়ন করেছি। এত বেশী উন্নয়ন করেছি, অনেক দিন কেউ তা করতে পারবে না। এসব মনে রেখে যদি মানুষ যদি আমাদের প্রতি ভোক্তি-শ্রদ্ধার সাথে ভোট দেয় তাহলে সেখানে নৌকা আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করবে। কারণ আমাদের কোন বদনাম নেই। কিছু বদনাম যুবলীগে হয়েছিল। কিন্তু সেটা সামান্য।

#আমরা জানি ঠাকুরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দী বিএনপির প্রার্থী হেভিওয়েট। সে ক্ষেত্রে দলের ভিন্ন কোন কৌশল থাকবে কিনা?
আমরা তো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী। কাজেই সেখানে (ঠাকুরগাঁও) পরিচ্ছন্ন নির্বাচন হবে। কোন রকম কারচুপি সেখানে হবে না।

# ঠাকুরগাঁও সদরের উন্নয়নের জন্য কি কি কাজ করছেন?
আমি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলা হিসেব গড়ে তোলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। এই এলাকার রাস্তা-ঘাট নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি, মোটামোটি তা সম্পন্নের দিকে। সড়ক ডিভাইডার তৈরীর জন্য কাজ চলছে। বিদ্যুৎ নিয়েও অনেক কাজ করছি। অন্যান্য কাজের মধ্যে হাসপাতাল তৈরীর কাজ চলছে। চিনি মিলের উন্নয়নের জন্য কাজ চলছে। এ উন্নয়ন কাজ গুলো শেষ হলে ঠাকুরগাঁও সদর আরও উন্নত হয়ে উঠবে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুব শীঘ্রই এক থেকে দুই মাসের মধ্যে ঠাকুরগাঁও এ যাবেন। তিনি যদি সেখানে একটি সাইন্স সেন্টার ও বিশ্ববিদ্যালয় করার প্রচেষ্টা চালাবো। এটা আমাদের গুরুদায়িত্ব। একই সঙ্গে রুহিয়া থানাকে উপজেলা করার জন্যও আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

#অবসর সময়ে কি করেন?
আমি অবসর সময়ে বই পড়ি। পরিবারকে খুব একটা সময় দেয়া হয় না। তবে মানুষের সঙ্গে গল্প করি ও তাদের প্রয়োজনীয় কাজ করে দেওয়ার চেষ্টা করি।