নিউমোনিয়ায় শিশুর জীবন বাঁচাবে শ্যাম্পুর বোতল! (ভিডিও)

আহমেদ সুমন : নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর জীবন বাঁচাবে শ্যাম্পুর বোতল! ভাবা যায়? কল্পকাহীনি নয়, বাস্তবেই নিউমোনিয়া রোগের সহজ ও অভাবনীয় চিকিৎসা উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশি একজন চিকিৎসক।

ডা. মোহাম্মদ জোবায়ের চিশতি।  ১৯৯৬ সালে তিনি বাংলাদেশ সিলেট মেডিক্যাল কলেজের শিশুশিক্ষা বিভাগে কাজ করতেন। কাজে যোগ দেয়ার প্রথম দিনেই তার চোখের সামনে নিউমোনিয়ায় তিনটি শিশুকে মারা যেতে দেখেন তিনি। অথচ তার কিছুই করার ছিলো না। সেই ব্যথাই তাকে প্রণোদিত করেছে এমন অভিনব নিউমোনিয়ার চিকিৎসার পথ খুলে দিতে।

২০ বছরের সাধনার পরে তিনি যে যন্ত্রটি উদ্ভাবন করলেন তার মূল অংশটি হলো শ্যাম্পুর খালি বোতল। নিউমোনিয়া শিশুদের ফুসফুস স্বাভাবিক মাত্রায় অক্সিজেন নেয়া বন্ধ করে দেয়। উন্নত দেশে এ চিকিৎসায় শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য কৃত্রিম যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। যা উন্নয়নশীল দেশের মানুষের জন্য ব্যয়বহুল।

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে কাজ করার সময় ডা. চিশতি এধরনের একটি মেশিনকে খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন। বাংলাদেশ ফিরে এসে স্বস্তায় নিউমোনিয়ায় চিকৎসা যন্ত্র তৈরি করা যায় কিনা তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। যা সিপিএপি ডিভাইস নামে পরিচিত।

পরবর্তীতে তিনি এবং তার সহকর্মী পরিত্যাক্ত একটা শ্যাম্পুর বোতল সংগ্রহ করে তার এক প্রান্তে কিছু প্লাস্টিকের সাপ্লাই টিউব সংযোজন করেন। সাপ্লাই টিউবি দিয়ে বোতলে ভর্তি পানির ভেতরে যখন যন্ত্র থেকে অক্সিজেন যায় তখন বুদবুদ তৈরি করে। এতে অক্সিজেন তৈরি হয়। বোতলের মাধ্যমে এই অভিনব চিকিৎসার ফলে নিউমোনিয়ার চিকিৎসায় খরচ অন্যদেশের তুলনায় অনেক কমেছে।

যন্ত্রটি সম্পর্কে ডা. চিশতি বলেন, এই ডিভাইসের মাধ্যমে শিশুরা একটি ট্যাঙ্ক থেকে নিঃশ্বাসের জন্য অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং প্রশ্বাসের জন্য তাদেরকে একটি টিউব দেয়া হয়। যার অপর প্রান্ত একটি বুদবুদ উৎপাদনকারী পানির বোতলে ঢুকানো থাকে। এর কারণ, বুদবুদ থেকে উৎপন্ন চাপ ফুসফুসের ছোট বায়ুকোষ্ঠগুলো খুলে রাখে।

ড. চিশতির এই যন্ত্র প্রায় ৬০০ শিশুর জীবন বাঁচাতে সাহয্য করেছে। এখন তিনি আশা করেন উন্নয়নশীল দেশের প্রত্যেকটি হাসপাতালে যেন সিপিএপি ডিভাইস থাকবে। নিউমনিয়ায় শিশুর মৃত্যু হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে।

ভিডিওটি দেখতে ক্লিক করুন.. .

https://youtu.be/BS2rl0Jlwa8