নওয়াজ শরীফের মুখে কেন ঢাকা পতনের স্লোগান?

ওমর শাহ : প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার পর প্রায় প্রতিটি সভা সেমিনারে ঢাকা পতনের (দেশ ভাগ) বিষয়টি তুলে ধরছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। পাকিস্তানে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা না হলে দেশটি ঢাকার মতো আবারও দ্বিখণ্ডিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন নওয়াজ শরীফ। ঢাকা পতনের বিষয়ে নওয়াজের এ বক্তব্য রাজনৈতিক স্বার্থে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের জিও টিভির সাংবাদিক হামিদ মীর। জিও নিউজের অনলাইনে প্রকাশিত ‘নওয়াজ শরীফ ও ঢাকা পতন’ শিরোনামে কলামটিতে হামিদ মীর ঢাকা পতনের প্রকৃত বিষয়টি বিশ্লেষণ করেন।

হামিদ মীর বলেন, মার্শাল ল পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় শত্রু। আজ পাকিস্তানে রাজনীতি অবিশ্বাস্য তবে ১৯৭৩ এর আইনও অবশিষ্ট রয়েছে। এ আইন প্রণেতারা পাকিস্তানকে পরমাণু শক্তিতে পরিণত করে। ১৯৭৩ এর আইন পরমাণু শক্তি থেকেও আরও বড় শক্তিশালী। এ আইনের বাস্তবায়ন হলে ‘ঢাকা পতনে’র মতো কোনো ভয় নেই। এ আইনের বাস্তবায়ন সেনা ও আদালত ছাড়া পার্লামেন্টেরও দায়িত্ব। যদি পার্লামেন্ট এমন কোনো আইন মঞ্জুর করে যা মূল আইনের পরিপন্থি তাহলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়বে।

হামিদ মীর বলেন, আওয়ামী লীগ ১৯৭০ সালে ছয় দফার ওপর লড়াই করে ও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু তাদের নেতৃত্ব দেওয়া হয়নি। নির্বাচিত নেতা গ্রেফতার হন ও গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। এ গৃহযুদ্ধ পাক-ভারত যুদ্ধে পরিণত হয় ও পাকিস্তান ভেঙ্গে যায়। পাকিস্তান দ্বিখণ্ডন ১৯৫৮ সালে মার্শাল ল’র মাধ্যমে শুরু হয়। আর ১৯৬৯ এর মার্শাল ল’র মাধ্যমে এর পূর্ণতা পৌঁছে।

হামিদ মীর বলেন, আমাদের স্মরণ রাখা উচিত, পাকিস্তান আন্দোলন পাঞ্জাব থেকে শুরু হয়নি পাকিস্তান আন্দোলন বাঙ্গাল থেকে শুরু হয়েছিল। অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ ১৯০৬ সালে লাহোর অথবা করাচিতে হয়নি ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মুসলিম লীগের প্রথম সরকার পাঞ্জাবে নয়, ইউনাইটেড বেঙ্গলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ২৩ এ মার্চ ১৯৪০ এর পর পাঞ্জাবের গরীব ও কর্মঠ মুসলমানরা পাকিস্তান আন্দোলনে ভূমিকা পালন করেছিল। কিন্তু এটাও ভোলা যাবে না ১৯৪৬ পর্যন্ত পাঞ্জাবের অধিকাংশ জমিদাররা ইউনিয়ন পার্টির সঙ্গে ছিল।

হামিদ মীর বলেন, ঢাকা পতন নিয়ে একটি জাতীয় আলোচনা প্রয়োজন তবে পাকিস্তানের তরুণ প্রজন্মকে এটাও বলা উচিত তাদের বড়দের কোনো ভুলের কারণে পাকিস্তান দু, টুকরো হয়েছিল। এটা বাস্তবতার পরিপন্থি যে, ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তান ভেঙে ছিল। এ যুদ্ধে যদি ভারতের বিরুদ্ধে আত্মসমর্পণ না করতো এবং শেষ সময় পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতো তাহলে পাকিস্তান একটি লজ্জাজনক পরাজয় থেকে বেঁচে যেতো। প্রশ্ন হচ্ছে, যখন আমাদের সেনারা অস্ত্র সমর্পণ করলো তখন ঢাকায় কেন বিজয় উল্লাস পালন হয়েছিল?