রোহিঙ্গা ইস্যু এবং পাকিস্তানের নীল নকশা

 

শাহরিয়ার কবীর : রোহিঙ্গা ইস্যুতে পাকিস্তান জড়িত। তা না হলে তারা নীরব কেন? পাকিস্তান তো সমস্যার গোড়ায়। রোহিঙ্গাদের অসহায়ত্ব এবং দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে পাকিস্তান পন্থীরা তাদের জঙ্গি, মৌলবাদী, সন্ত্রাসীর সঙ্গে যুক্ত করছে। তাদের জেহাদী বলয়ের সঙ্গে যুক্ত করছে। তাদের যে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক রয়েছে, তার সঙ্গে যুক্ত করছে। বিগত ১৫ বছর ধরে আমরা এ বিষয়ে নজরদারি করছি, তদন্ত করছি, দেখছি। তাদের কাগজপত্র আমাদের হাতে এসেছে। পাকিস্তানের একটা নীল নকশা হচ্ছে, মিয়ানমারের রাখাইনের অংশ আমাদের বান্দরবান এবং কক্সবাজারকে সঙ্গে নিয়ে একটা স্বাধীন রোহিঙ্গা মুসলিম রাজ্য তৈরি করা। এখানে জামায়াতে ইসলামী তাদের মদদ দিচ্ছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জামায়াত যখন বিএনপির সঙ্গে মিলে রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল তখন আমরা এখানকার জঙ্গি-মৌলবাদী-সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর একটা তালিকা তৈরি করেছিলাম। সে তালিকার ভেতর ১২৫টা সংগঠনের নাম আমরা পেয়েছি, যার মধ্যে ১৭টা রোহিঙ্গাদের সংগঠন। যার মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিল ‘রোহিঙ্গা সলিডারিটি অরগানাইজেশন’। যার কাগজপত্র পেয়েছি, বইপত্রে পেয়েছি। ইসলামি ব্যাংক ব্যবহার করে তারা মানি লন্ডারিং করছিল জেহাদের জন্য।

আমরা একটা ছবি বানিয়েছিলাম ২০১০ সালে, ২১ আগস্ট বোমা হামলার ওপর ভিত্তি করে। সেখানে একজন আরএসও কমা-ারের বক্তব্য রয়েছে। সে বলেছে, কিভাবে তখন আরাকান থেকে এসেছিল। তারপর জামায়াতিরা কিভাবে তাকে রিক্রুট করেছে, হায়ার ট্রেনিংয়ের জন্য বাইরে পাঠিয়েছে। জঙ্গিরা মিয়ানমারে, কাশ্মীরে জেহাদ করেছে। এটাই তো পাকিস্তানের ডিজাইন। যে সব রোহিঙ্গা পাকিস্তানে রয়েছে, তার বেশির ভাগকেই পাকিস্তান ব্যবহার করবে জঙ্গি কার্যক্রমে। রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের প্রধান কুদ্দুস শেখ। সে করাচীতে বসে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে। ইন্টারনেট ঘাটলেই পাবেন। সে হাফিজ সাঈদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। তালেবানদের সংগঠনগুলোর ফ্রন্ট। পাকিস্তানের এক নম্বর সন্ত্রাসী এখন হাফিজ সাঈদ। যে কারণে আমেরিকা এক মিলিয়ন ডলার ঘোষণা করেছে। হাফিজ সাঈদের সঙ্গে মিটিং নতুন কোনো ব্যাপার নয়। পাকিস্তান চাইছে রোহিঙ্গারা চলে আসুক বাংলাদেশ। এবং এরা যাতে ফিরে না যায়। এজন্য তারা বিভিন্নভাবে অর্থ দিচ্ছে। জামায়াতিরা বিলেতে এসব টাকা তুলছে, তারপর রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিলি করছে। টাকা দিয়ে এসব গরিব অসহায় মানুষকে ব্যবহার করছে। যে অস্ত্র সৌদি আরবে তৈরি হলো সেটা পাকিস্তানে বসে কাজ করছে। ড. আসাদুল্লাহ আল গালিব জঙ্গি-মৌলবাদীদের একজন বড় নেতা। পাকিস্তানের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে। এরা একাত্তরে বাংলাদেশের বিপক্ষে ছিল, এখনো তাই। বাংলাদেশে তারা ইসলামি হুকুমমত কায়েম করতে চায়। এবং বাংলাদেশকে একটা ব্যর্থ, দুর্বল রাষ্ট্র বানানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থাকলে এটা কখনো সম্ভব হবে না। হাসিনাকে উৎখাত করার জন্য তারা যুদ্ধ চায়। আর যুদ্ধ চায় বলেই চেচামেচি করেছে, বাংলাদেশ কেন যুদ্ধ করে আরাকান দখল করছে না! এসব আসলে পাকিস্তানের নীল নকশা। যেকোনো উপায়ে তারা তা বাস্তবায়ন করতে চায়। এ বিষয়ে অবশ্যই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

পরিচিতি : সভাপতি, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি
মতামত গ্রহণ : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ
সম্পাদনা : আশিক রহমান